ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর শিশুদের ইনফেকশন

সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর শিশুদের ইনফেকশন

সারা বাংলা

সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর শিশুদের ইনফেকশন

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে একটি বেসরকারি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা কর্মসূচির পর বেশ কয়েকজন শিশুর শরীরে ইনফেকশনসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে গিয়ে শিশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দিয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কাননের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে দলটি সেন্টমার্টিন ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পৌঁছে খতনা করা শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেয়।

 

মেডিকেল টিমের তথ্যমতে, খতনা করা ১২০ শিশুকে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ২২ শিশুর শরীরে ইনফেকশন শনাক্ত হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা ভালো আছে।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, খতনা করানোর পর কয়েকজন শিশুর ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ ও ইনফেকশনের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কোনো কোনো শিশুর ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণও হয়েছে। পরে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা শিশুদের নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

 

এর আগে গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবকাশ রিসোর্টে আল-মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ ও শিশুদের সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শায়খ মুফতি মাহবুবুল্লাহ কাসেমীর তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সেখানে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করা হয়। পরে শিশুদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার কথাও জানানো হয়। কর্মসূচিতে অংশ নিতে মেডিকেল টিমটি টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে অনুমতি নিয়ে সেন্টমার্টিনে যায়।

 

তবে খতনা করার কয়েক দিন পর কিছু শিশুর শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে।

 

সেন্টমার্টিনে পাঠানো মেডিকেল টিমের প্রধান ডা. নওশাদ আলম কানন বলেন, খতনা করা শিশুদের মধ্যে কয়েকজনের ইনফেকশনের খবর পাওয়ার পর তারা সেন্টমার্টিনে যান। সেখানে ১২০ শিশুকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ শিশুর নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে। তিনি বলেন, খতনার পর নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ না খাওয়ানো, সময়মতো ড্রেসিং না করা এবং খতনা কার্যক্রমে নিয়োজিতদের অসচেতনতার কারণে এসব সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।

 

ডা. নওশাদ আলম কানন আরও বলেন, উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন দেওয়া জরুরি। খতনার পর নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে ড্রেসিং করা হলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

 

তিনি জানান, বর্তমানে অসুস্থ শিশুদের অন্য কোথাও পাঠানোর প্রয়োজন নেই। সেন্টমার্টিনেই তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, শিশুদের চিকিৎসার জন্য বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে। তারা শিশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছে।

 

ইউএনও জানান, পরীক্ষায় ২২ শিশুর শরীরে ইনফেকশন পাওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিশুরা ভালো আছে। নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা ও ড্রেসিং করা হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তারা সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিমের বরাত দিয়ে ইউএনও আরও বলেন, সময়মতো ড্রেসিং না করা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়া এবং পর্যাপ্ত ওষুধ না দেওয়ার কারণে শিশুদের মধ্যে ইনফেকশন হয়ে থাকতে পারে।

 

এদিকে, দুর্গম দ্বীপ এলাকায় এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শিশুদের খতনা করার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, ড্রেসিং ও প্রয়োজনীয় ফলোআপ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন