ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিধবার টিপসই নিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ

ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিধবার টিপসই নিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ

সারা বাংলা

ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিধবার টিপসই নিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও টিপসই নেওয়ার পর তাঁর নামে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় মসজিদ কমিটির কাছে বিচার দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম (৪৩) উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় এক যুগ আগে তাঁর স্বামী মারা যান। পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিন ছেলের বিয়ে হয়েছে। তাঁর নাতি-নাতনিও রয়েছে আর ছোট ছেলের বয়স ১৩ বছর।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আছিয়া বেগমের ছেলে আসাদুলের বিয়ের সময় প্রায় চার বছর আগে প্রতিবেশী আব্দুল কদ্দুছ (৬২)-কে উকিল শ্বশুর করা হয়। সেই সুবাদে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কদ্দুছের পরিচয় ও যাতায়াত ছিল। অভিযোগ রয়েছে তিনি বিভিন্ন সময় স্থানীয় আব্দুস ছাত্তারের মাধ্যমে আছিয়া বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে প্রতিবারই ওই নারী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস আগে আব্দুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাকে তার দোকানে নিয়ে যান। সেখানে তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নেওয়া হয়। কয়েক দিন পর আবার তাঁকে ডেকে নিয়ে একটি কাগজে টিপসই নেওয়া হয়।

 

সম্প্রতি আছিয়া বেগম জানতে পারেন, আব্দুল কদ্দুছের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে এমন প্রচার এলাকায় করা হচ্ছে। এ সময় তাঁকে একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কাগজও দেখানো হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও সভাপতির কাছে বিচার দেন।

 

গত সোমবার সন্ধ্যায় পাটুলী গ্রামের ওই নারীর বাড়িতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সালিশ বসে। সেখানে আছিয়া বেগম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তবে অভিযুক্ত আব্দুস ছাত্তার সালিশে উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ফের বুধবার সালিশের দিন ধার্য করা হয়।

 

সালিশে উপস্থিত স্থানীয়দের অভিযোগ, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আছিয়া বেগমের কাছ থেকে কৌশলে টিপসই, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ছবি নেওয়া হয়েছে। পরে এসব ব্যবহার করে এফিডেভিট ও কাবিননামা তৈরির ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

 

স্থানীয়দের দেখানো কাবিননামায় ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী অফিসের সিল রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে দেনমোহর ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা আদায়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তাঁরা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

 

এ ঘটনায় আব্দুস ছাত্তার ও আব্দুল হেকিম মাস্টার জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

সাংবাদিক পরিচয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আব্দুস ছাত্তার পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি। অভিযুক্ত আব্দুল কদ্দুছের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

ভুক্তভোগী আছিয়া বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে একদিন আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নিয়েছেন ছাত্তার। আরেক দিন ফোন করে তার দোকানে নিয়ে কাগজে টিপসই নিয়েছেন। এখন গ্রামে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে, কদ্দুছ আমাকে বিয়ে করেছেন। আমার পাঁচ সন্তান ও নাতি-নাতনি রয়েছে। এ ঘটনায় আমি মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারছি না। আমি সমাজ ও মসজিদে বিচার দিয়েছি। যারা এ কাজ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

 

ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আমার নম্বর, সিল ও স্বাক্ষর জাল করে কেউ হয়তো কাবিননামা তৈরি করেছে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

 

ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ভুক্তভোগী নারীকে সম্মানহানির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একজন নারীর সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগের নিন্দা জানান তিনি।

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন