আন্তর্জাতিক
ইয়েমেন থেকে হুথি গোষ্ঠীকে নির্মূল করাই আমাদের মূল লক্ষ্য: ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা জানিয়েছেন, সংঘাত কমানোর সব ধরনের সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ইয়েমেন সরকার এখন রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের দিকে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেছে।
আশার্ক আল-আওসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতের যেকোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পরিণতি হতে হবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ফিরে আসা এবং যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। সশস্ত্র কোনো গোষ্ঠীর সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করার বিষয়টি ইয়েমেন সরকার পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিকে বিসর্জন দিইনি, বরং সেই শান্তির মোহ ত্যাগ করেছি যা রাষ্ট্রের বাইরে অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলতে দেয়’। বর্তমান পর্যায়ের মূল লক্ষ্য হলো হুথি অভ্যুত্থানের অবসান ঘটানো এবং সমগ্র জাতীয় ভূখণ্ডে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ইচ্ছার ওপর ইয়েমেনের জনগণের নিজেদের রাষ্ট্রের অধিকার আটকে থাকতে পারে না। রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের সাথে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চলাচলের নিরাপত্তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা উপকূল থেকেই শুরু হয়, আর যতদিন স্থলভাগ থেকে সাগরে জাহাজের ওপর হুমকির সুযোগ থাকবে, ততদিন সমুদ্রে জাহাজ রক্ষার বিষয়টি একটি অসম্পূর্ণ সমাধান হয়েই থাকবে’। তিনি সৌদি আরবের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার প্রশংসা করেন এবং জানান, এই পর্যায়ের সাফল্য কতগুলো শহর পুনরুদ্ধার করা হলো তা দিয়ে মাপা হবে না, বরং কতজন নাগরিক নিজেদের নিরাপত্তা ফিরে পেলেন এবং কতগুলো পরিবার নিজেদের ঘরে ফিরতে পারল তা দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সমর্থন আগের চেয়ে বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন আল-জুবা। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রও ঘোষণা দিয়েছে যে হুথিরাই এই সংঘাত শুরু করেছে এবং এর পরিণতি তাদেরই ভোগ করতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হুথিদের হামলার জবাবে এবং তাদের দখল করা এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্যই সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে, কারণ ইয়েমেন সরকার ও সৌদি আরব কোনোভাবেই বাব আল-মান্দেবে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেবে না। সরকার আশা করে যে, আন্তর্জাতিক সমর্থন সুনির্দিষ্ট সময়সীমাযুক্ত বাস্তবমুখী কর্মসূচিতে রূপ নেবে এবং ইরানের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।
ইরানের সহায়তার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের কাছে থাকা প্রমাণগুলো নিছক কোনো রাজনৈতিক মূল্যায়ন নয়, বরং এগুলো সুনির্দিষ্ট ও প্রামাণ্য দলিল। গত বছর এক অভিযানেই হুথিদের কাছে পাচার হওয়ার সময় ৭৫০ টনের বেশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে ইয়েমেনি বাহিনী, যার মধ্যে জাহাজবিধ্বংসী ও বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনের ইঞ্জিন এবং রাডার সরঞ্জাম ছিল। এগুলোর সাথে ফারসি ভাষায় লেখা নির্দেশিকাও পাওয়া যায়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ইয়েমেনের পরিস্থিতি কেবল ইরানের সাথে সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; হুথিদের নিজস্ব স্বার্থ ও ক্ষমতা ধরে রাখার নিজস্ব এজেন্ডাও রয়েছে।
সম্প্রতি এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলাকে বেসামরিক স্থাপনায় ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আল-জুবা। তিনি জানান, কায়রো থেকে আসা একটি ফ্লাইট অবতরণের মাত্র কয়েক মিনিট আগে রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যার ফলে ফ্লাইটটি বাধ্য হয়ে জেদ্দায় ঘুরিয়ে নিতে হয়। এটিকে তিনি নাগরিকদের জীবন ও পরিষেবার ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেন। পুনরুদ্ধার করা এলাকাগুলোতে কোনো প্রতিশোধ বা গণশাস্তির জায়গা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান ও আইন মেনে চললে যে কারও জন্য সাধারণ ক্ষমা ও নিরাপদে ফিরে আসার দরজা খোলা রয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ
ডিবিসি/ এসভিএন