আন্তর্জাতিক
মাচাদোকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণায় সই করতে বাধ্য হয়েছিলেন: সাবেক বিচারপতির দাবি

ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার আদেশে সরকারের হুমকির মুখে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে দাবি করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি বারবারা সিজার সিয়েরো।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার করে তাকে এই আদেশে সই করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তার এই বিস্ফোরক দাবির পর মাচাদোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।
৫১ বছর বয়সী সিয়েরো ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সামরিক বাহিনীতে কর্মরত তার দুই ভাই ও এক ভাবিকে গ্রেফতার করা হয়। আত্মীয়দের আটকের পর তাকে মাচাদোর ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ মোট ৯টি আদেশে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয়।
সিয়েরো বলেন, ‘আমি নিজেকে বলেছিলাম, হয়তো আমি স্বাক্ষর করলে তারা তাদের ছেড়ে দেবে। শেষ পর্যন্ত আমি স্বাক্ষর করেছিলাম, কিন্তু তাদের আটকেই রাখা হয়।’
২০২৩ সালে বিরোধী দলের প্রাথমিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন মাচাদো। কিন্তু এই আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। শেষ মুহূর্তে তার বদলে বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে সাবেক কূটনীতিক এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে মনোনীত করা হয়, যিনি সাধারণ মানুষের কাছে খুব একটা পরিচিত ছিলেন না।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ওই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত মাদুরোকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে বিরোধী দল ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ নির্বাচনের এই ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের বিচার হওয়ার কথা রয়েছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, বিতর্কিত ওই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়টির সাথেও মাদুরোকে আটকের এই অভিযানের যৌক্তিকতা জড়িত ছিল।
ডিবিসি/এমএনকে