স্বাস্থ্য
আজ বিশ্ব ডিম দিবস: ডিমকে বলা হয় প্রকৃতির মাল্টিভিটামিন

সকালের নাস্তায় হোক কিংবা তাড়াহুড়োর দুপুরে, মানুষের রোজকার জীবনের অন্যতম ভরসার নাম একটি ছোট্ট ডিম। আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস, আর এই দিনে প্রকৃতির নিজস্ব মাল্টিভিটামিন হিসেবে পরিচিত এই খাবারটির আদি কথা জানাটা বেশ চমকপ্রদ।
ডিমকে কেন প্রকৃতির মাল্টিভিটামিন বলা হয়, তার কারণ এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা পুষ্টিগুণের বিশাল ভাণ্ডার। একটি ডিমে মানুষের শরীরের জন্য দরকারি প্রায় সব ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। উন্নত মানের প্রোটিন, ভিটামিন এ, বি, ডি, আয়রন, জিংক ও কোলিনের মতো উপাদানগুলো মেধা বিকাশ ও শরীর সুস্থ রাখতে দারুণ কাজ করে। কম খরচে এত পুষ্টি অন্য কোনো খাবারে পাওয়া বেশ কঠিন, যা একে সব বয়সের মানুষের জন্য আদর্শ খাবারে পরিণত করেছে।
মানুষের খাবারের প্লেটে ডিমের আসা একদিনে ঘটেনি, এর রয়েছে হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস। ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, মানুষ প্রথম কবে ডিম খাওয়া শুরু করেছিল, তার সঠিক দিনক্ষণ বলা কঠিন। তবে খাদ্য ইতিহাসবিদদের গবেষণায় দেখা যায়, খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৭৫০০ থেকে ৩৫০০ অব্দের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতীয় উপমহাদেশে বন্য মুরগি পোষ মানানোর মাধ্যমে ডিমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ‘ফুড ইন হিস্ট্রি’ বইয়ের লেখক রেয়াহ তান্নাহিলের মতে, শুরুতে মানুষ মূলত মাংসের জন্যই মুরগি পালন করত, তবে ধীরে ধীরে তারা বুঝতে পারে যে ডিমও একটি চমৎকার খাবার।
প্রাচীন মিশর ও চীনের ইতিহাসেও ডিমের ব্যবহার বেশ পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দের দিকে মিশর ও সুমেরীয় সভ্যতায় ব্যাপকভাবে মুরগি পালন এবং ডিম খাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাচীন রোমানদের খাদ্যাভ্যাসে ডিম এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, তাদের যেকোনো বড় ভোজের শুরুই হতো ডিম দিয়ে। রোমান প্রবাদ ‘আব ওভো উসকে আদ মালা’ বা ‘ডিম থেকে আপেল পর্যন্ত’ কথাটি থেকেই বোঝা যায়, তাদের খাবারে ডিমের কদর কতটা বেশি ছিল। সময়ের সাথে সাথে ইউরোপ থেকে শুরু করে আমেরিকায় ডিমের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।
আজকের দিনে বিশ্ব ডিম দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এর অবদান সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক এগ কমিশনের সম্মেলনে প্রথম এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার সারা বিশ্বে দিনটি নানা আয়োজনে পালন করা হয়।
ডিম শুধু মানুষের শরীরের পুষ্টিই জোগায় না, বরং কৃষক ও খামারিদের বেঁচে থাকার একটি বড় উপায় হিসেবেও কাজ করে। প্রকৃতির এই অনন্য উপহারের সঠিক মূল্যায়ন এবং এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানাশোনা ও সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়া নেয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি। সবার পাতে যেন এই পুষ্টিকর খাবারটি পৌঁছাতে পারে, তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের নানা সংগঠন।
ডিবিসি/এমএনকে