আন্তর্জাতিক, অন্যান্য
নিজস্ব প্রযুক্তির প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করল দক্ষিণ কোরিয়া

নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের উপস্থিতিতে এই পরীক্ষা হয় বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের দপ্তর ব্লু হাউস। এর কয়েক দিন আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় মধ্যম পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দাবি করে উত্তর কোরিয়া।
ব্লু হাউস জানায়, দেশীয় প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উন্নয়নাধীন হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকলের (এইচজিভি) প্রথম উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেন প্রেসিডেন্ট। রকেট বুস্টার বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে পাঠানোর পর এই যান শব্দের অন্তত পাঁচ গুণ গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যায়।
বিবৃতিতে অস্ত্রটিকে যুদ্ধক্ষেত্রের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ বলা হয়েছে। এর অননুমেয় গতিপথ ও প্রচণ্ড গতি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সহায়তা করে।
পরীক্ষায় অতি উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল উপকরণের কার্যকারিতা, দিকনির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং কম উচ্চতায় হাইপারসনিক গতিতে অনিয়মিত পথে ওড়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, উৎক্ষেপণের পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গ্লাইড ভেহিকলটি নিচু উচ্চতায় নেমে আসে। এরপর ওপর-নিচে ও দুই পাশে গতিপথ পরিবর্তন করে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় হাইপারসনিক অস্ত্রের পরীক্ষা বাড়িয়েছে উত্তর কোরিয়া। কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং সুং-পিয়ো বলেন, দক্ষিণ কোরিয়াও এই প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে এবং এবার সফল পরীক্ষা করেছে বলা যায়।
পিয়ংইয়ং দাবি করেছে, শনিবার পরীক্ষিত তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউখেলানো গতিপথ কার্যকরভাবে অনুসরণ করতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। তবে সিউল ও ওয়াশিংটনের বক্তব্য, মিত্র দুই দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত ও প্রতিহত করা সম্ভব।
সূত্র: দ্য জাপান টাইমস
ডিবিসি/এসএফএল