আন্তর্জাতিক, আমেরিকা
ইরানে ৩ দিনের হামলার সিদ্ধান্ত পেন্টাগনের, দ্বিধায় ট্রাম্প

ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো হামলার অনুমোদন দিতে দ্বিধায় রয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
পরিকল্পনায় প্রায় তিন দিনের তীব্র হামলার কথা রয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত, জ্বালানি স্থাপনা এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদর দপ্তর ও কমান্ড পোস্ট। শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এসব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
তবে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না। দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান কিংবা ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের পাঁচটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ ওই অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরি একত্র হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও একটি রণতরি পরে জাপানে ফিরে যাওয়ায় এই শক্তিবৃদ্ধি হবে সাময়িক।
অন্যদিকে, ইরানের উন্নত আক্রমণকৌশল মার্কিন বাহিনীর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আগের চেয়ে বেশি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ বাড়ছে।
ব্রিটিশ নৌবাহিনী পরিচালিত একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থার হিসাবে, সেপ্টেম্বর থেকে অন্তত ১৩টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলার জবাবে বড় অভিযান চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র।
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধ কাটেনি। ওয়াশিংটন বিষয়টি আগে নিষ্পত্তি করতে চায়, আর তেহরান চায় শেষে আলোচনা হোক। ফলে নির্বাচনের পরও ট্রাম্প হামলার অনুমোদন দেবেন কি না, তা অনিশ্চিত।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
ডিবিসি/এসএফএল