সারা বাংলা
১ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে দেয়া হলো শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ
.webp)
দেশব্যাপী মাত্রাতিরিক্ত শব্দের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪০ জন মানুষকে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর অধীনে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রকল্প পরিচালক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের (ঢাকা মেট্রো) পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় সবচেয়ে বেশি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন পরিবহন খাতের ৭২ হাজার ২০০ জন চালক ও শ্রমিক।
এর পাশাপাশি ৫০ হাজার শিক্ষার্থী, ৮ হাজার ১৪০ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১ হাজার ৯২০ জন কারখানা ও নির্মাণ শ্রমিক, ১ হাজার ৮০০ জন সাংবাদিক এবং শিক্ষক, ইমাম, ব্যবসায়ী ও এনজিও প্রতিনিধিসহ ৫ হাজার ৫৮০ জন পেশাজীবী এই প্রশিক্ষণের আওতায় এসেছেন। এছাড়া বিআরটিএ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২৪০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষক হিসেবে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কঠোর আইন প্রয়োগ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশব্যাপী পরিচালিত প্রায় ২ হাজার ৫০০ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭ হাজার ২৯৭টি মামলায় মোট ১ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ১৫৭ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ৬ হাজার ৯৮৬টি নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
একই সঙ্গে টেলিভিশন, রেডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল বার্তার মাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি দেশজুড়ে বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড স্থাপন এবং লাখ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবারে এবং ইমামদের মাধ্যমে মুসল্লিদের মাঝে এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নীরব এলাকাগুলোতে হর্ন বাজানো বন্ধে নিয়মিত তদারকি চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ডিবিসি/এমএনকে