আন্তর্জাতিক
যুদ্ধের কারণে প্রকৃতি ধ্বংস, যুদ্ধবাজদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে: আরাঘচি

পরিবেশগত বিপর্যয় ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর দায়ে আগ্রাসীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি ‘ইকোসাইড’ বা পরিবেশ নিধনকে প্রচলিত যুদ্ধাপরাধেরও ঊর্ধ্বে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে কেবল উদ্বেগ প্রকাশ না করে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেয়ার জোর আহ্বান জানান।
রবিবার (১১ অক্টোবর) তেহরানে আয়োজিত ‘ইকোসাইড: দ্য সাইলেন্ট ওয়ার ক্রাইম’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আরাঘচি বলেন, পরিবেশ হলো সমগ্র মানবজাতির অভিন্ন ঐতিহ্য, এটি কোনো শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্র নয় কিংবা স্বল্পমেয়াদী অর্থনৈতিক ও সামরিক হিসেব-নিকেশের শিকার হতে পারে না। তিনি জানান, ‘ইকোসাইড’ শব্দটি ধারণাগতভাবে ‘জেনোসাইড’ বা গণহত্যার সমতুল্য এবং পরিবেশের বিরুদ্ধে সাধারণ যুদ্ধাপরাধের চেয়েও গভীর এক সংকট, যাকে ফারসি ভাষায় ‘প্রকৃতি হত্যা’ বলা যেতে পারে।
যুদ্ধ কীভাবে পানি, মাটি, বাতাস, বনভূমি, কৃষিজমি এবং জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি করে, তা তুলে ধরে তিনি বলেন, লড়াই থেমে যাওয়ার পরও কয়েক বছর বা কয়েক দশক ধরে এই ধ্বংসযজ্ঞের রেশ বয়ে বেড়াতে হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি গাজায় জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) তথ্যানুযায়ী নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি, বিশেষ করে জলপাই বাগান ধ্বংস ও পানি-মাটি দূষণের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি লেবাননে বনাঞ্চল ও হাজার হাজার জলপাই গাছ পুড়িয়ে দেয়া এবং ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ইরানের তেল স্থাপনায় হামলার পর বিষাক্ত উপাদান ছড়িয়ে পড়া ও তেহরানের আকাশে ‘কালো বৃষ্টি’র অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার তিনটি মূল ক্ষেত্রের ওপর জোর দেন আরাঘচি। তার মতে, পরিবেশগত ধ্বংসযজ্ঞ চিহ্নিত ও মোকাবিলার জন্য সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো ও মানদণ্ড জোরদার করা, সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতি নথিবদ্ধ করতে নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিরোধ ও বাস্তুতন্ত্র পুনর্গঠনে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো জরুরি।
তিনি স্পষ্ট জানান যে ইরান পরিবেশ নিধনকে একটি স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পক্ষে এবং দেশি-বিদেশি বৈজ্ঞানিক, আইনি ও কূটনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে সামরিক হামলার পরিবেশগত প্রভাবের প্রতি বৈশ্বিক মনোযোগ টানার উপযুক্ত সুযোগ হিসেবে তিনি আসন্ন কপ৩১ (COP31) সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগ্রাসীদের তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় এড়িয়ে যেতে আমরা কিছুতেই সুযোগ দিতে পারি না।’
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
ডিবিসি/ এসভিএন