আন্তর্জাতিক, আমেরিকা
একই জায়গায় ৫ জনের মৃত্যু, সিরিয়াল কিলার আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ল্যান্সিং রিভার ট্রেইলে একের পর এক হামলায় পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় একজন সিরিয়াল কিলারের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব হামলায় মূলত শ্বেতাঙ্গ ও গৃহহীন পুরুষদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
গত বছরের ১৪ অক্টোবর সকালে ৫৪ বছর বয়সী জিনো চুইনার্ডকে এই ট্রেইলে অজ্ঞান ও মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ১৩ দিন পর তিনি মারা যান। তার চাচা রবার্ট চুইনার্ড সিএনএনকে জানান, ঘটনার আগের রাতে জিনো একটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রবেশের সময় কয়েক মিনিটের জন্য মিস করেন। তিনি বলেন, ‘তারা তাকে ওই শেল্টারে ঢুকতে দেয়নি। তারা নিয়মের ব্যাপারে বেশ কড়া। সে তার প্রেমিকাকে ফোন করে জানিয়েছিল যে সে রিভার ট্রেইলেই ঘুমাবে।’ রবার্ট আরও জানান, জিনো একসময় ভালো অ্যাথলেট ছিলেন, কিন্তু তার শরীরে প্রতিরোধের কোনো দাগ ছিল না। তার মানে ঘুমের মধ্যেই তার মাথার পেছনে আঘাত করা হয়েছিল।
এই ধারাবাহিক মৃত্যুর পর ল্যান্সিং শহরের পুলিশ প্রধান রবার্ট ব্যাকাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাছে একটি প্রশ্ন বারবার আসছে, ল্যান্সিংয়ে কি কোনো সিরিয়াল কিলার ঘুরে বেড়াচ্ছে?’ তিনি জানান, তদন্তকারীরা এই ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন।
ল্যান্সিংয়ের মেয়র অ্যান্ডি শোর এক বিবৃতিতে জানান, অন্তত একটি মৃত্যুর ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই হামলাগুলোতে মূলত এমন পুরুষদের লক্ষ্য করা হয়েছে যারা গৃহহীন এবং রাতে রিভার ট্রেইলে ঘুমাচ্ছিলেন, বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টার মধ্যে। আমরা জানি সাধারণ জনগণ এই হামলার লক্ষ্যবস্তু নয়। ল্যান্সিং রিভার ট্রেইল এবং আমাদের ডাউনটাউন এলাকা বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপদ।’
জিনোর মৃত্যুর পর চলতি গ্রীষ্মে ট্রেইলে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। ৯ জুলাই কালামাজু স্ট্রিট ব্রিজের কাছে ৭০ বছর বয়সী ডেনিস ডানেব্যাককে মুখে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং কয়েক দিন পর তিনি মারা যান। ১৩ জুলাই সকালে ৫৭ বছর বয়সী রবার্ট স্মিথকে মাথায় রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, তিনিও পরে হাসপাতালে মারা যান। গত মাসে তার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া ২০ আগস্ট ভোরে ২২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লুস্ককে ছুরিকাঘাতে নিহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যুর ঘটনায় একজনকে আটক করে বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। সবশেষ ৩০ আগস্ট ৫৭ বছর বয়সী লুইস উডরাফকে মুখে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ১ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।
পুলিশ প্রধান ব্যাকাস জানান, হামলার সময় ভুক্তভোগীরা শুয়ে ছিলেন বা ঘুমাচ্ছিলেন বলে তারা ধারণা করছেন। ঘটনার সময় ওই এলাকায় কোনো ক্যামেরা বা সাক্ষী ছিল না। তবে এরপর থেকে সেখানে ক্যামেরা বসানো হয়েছে, টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সমাজকর্মীরা এলাকার গৃহহীনদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। ব্যাকাস জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি চাই না কেউ ভাবুক যে আমরা এদিকে মনোযোগ দিচ্ছি না বা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি না।’
এদিকে জিনোর চাচা রবার্ট চুইনার্ড শহরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ধারণা, একজন সিরিয়াল কিলার মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটি হয়তো কোনো সিরিয়াল কিলার বা তারই অনুকরণকারী কেউ।’
সূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/ এসভিএন