ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

বেনাপোলে রাজস্ব কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

বেনাপোলে রাজস্ব কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

সারা বাংলা

বেনাপোলে রাজস্ব কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে

বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকে শুল্কায়ন ছাড়াই দুই ট্রাক পণ্য বেরিয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর ঘটনায় বন্দরের নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে এ ঘটনার খোঁজ নিতে গিয়ে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার-২ শরফুদ্দিন মিঞার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার জেরে কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আকস্মিক কর্মবিরতিতে বন্দরে প্রায় চার ঘণ্টা পণ্য খালাস বন্ধ ছিল।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ৪১ নম্বর শেডে থাকা চার ট্রাক পণ্যের মধ্যে দুই ট্রাক বন্দর থেকে বেরিয়ে ঢাকার সদরঘাট এলাকার একটি গুদামে পৌঁছায়। পরে একটি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে ওই পণ্যগুলো আটক করা হয়। চালানটির ম্যানিফেস্ট নম্বর ৬০১২০২৬০০৩০০৬২৬৫১। এর সঙ্গে ঢাকার সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘গ্রিন ওয়ে ইন্টারন্যাশনাল’ এবং যশোরের আমদানিকারক ‘মেসার্স আবিদ ইন্টারন্যাশনাল’ জড়িত বলে জানা গেছে।

 

পণ্য বেরিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৪১ নম্বর শেডে পরিদর্শনে যান যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা। ওই সময় শেডে পণ্য তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমান, ট্রাফিক পরিদর্শক মামুনুর রশিদ ও সহকারী শেড ইনচার্জ আশরাফুল আলম। পণ্য গায়েবের বিষয়ে জানতে চাইলে আরমান জানান, তিনি অন্য কাজে অন্যত্র ছিলেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে রোববার (১১ অক্টোবর) দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে আরমান দাবি করেন, সে সময় শেডে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সামনেই যুগ্ম কমিশনার তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

 

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবাদে পণ্য ছাড়করণ বন্ধ করে দিলে চার ঘণ্টা যাবত খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অভিযুক্ত যুগ্ম কমিশনারের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার দাবি উঠেছে। ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে ৪১ নম্বর শেডের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ ও একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার বিরুদ্ধে এর আগেও অধস্তনদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, প্রশাসনিক হয়রানি এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান ও আব্দুর রহমানসহ অনেকেই অভিযোগ করেছেন, পণ্য খালাসে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা সৃষ্টি ও অসহযোগিতা করে থাকেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা সাংবাদিকদের কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত গাড়িতে করে কাস্টমস হাউস ত্যাগ করেন। ভুক্তভোগী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমান বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর কথা স্বীকার করলেও বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘৪১ নম্বর শেড থেকে পণ্য খালাস এবং কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পণ্য খালাসের নথিপত্র, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন