ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করতে বাড়িঘরে ভেড়া ঢুকিয়ে অত্যাচার করা হচ্ছে!

ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করতে বাড়িঘরে ভেড়া ঢুকিয়ে অত্যাচার করা হচ্ছে!

আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করতে বাড়িঘরে ভেড়া ঢুকিয়ে অত্যাচার করা হচ্ছে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে

পশ্চিম তীরের রুক্ষ পাহাড়গুলোতে হাজার বছর ধরে মেষ পালকদের যাতায়াত থাকলেও বর্তমানে সেখানে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে মেষ পালনের মতো বিষয়টিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে উগ্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা।

ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে জোরপূর্বক ভেড়া ঢুকিয়ে দেওয়া এবং জলপাই গাছসহ গাছপালা ধ্বংস করার মাধ্যমে এলাকাটিকে বসবাসের অনুপযোগী করে তোলার এক অভিনব ও নৃশংস কৌশল নিয়েছে তারা।

 

মার্কিন গণমাধ্যম ‘সিবিএস নিউজ’-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সিক্স মিনিটস’-এ প্রচারিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

 

জর্ডন নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই অঞ্চলে বর্তমানে ৩০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন, যারা এটিকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দু বানাতে চান। একই সঙ্গে এই এলাকায় ৫ লাখেরও বেশি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীও বসবাস করেন, যারা এলাকাটিকে তাদের বাইবেলার জন্মভূমি বলে দাবি করেন। প্রায় ছয় দশক ধরে এলাকাটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম তীরে ভেড়ার খামার গড়ে তোলা মোরদেহাই মিনস্টার নামের এক বসতি স্থাপনকারী জানিয়েছেন, তাদের মেষের পালগুলো ফিলিস্তিনিদের বিভিন্ন জনপদের ভেতর দিয়ে আরও গভীরে প্রবেশ করছে। মেষের পালের মাধ্যমে মূলত তারা বসতির সীমানা জোরপূর্বক নির্ধারণ করছেন।

 

বর্তমানে পশ্চিম তীরের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা জুড়ে এই ইহুদি মেষের খামারগুলো বিস্তার লাভ করেছে। গত কয়েক বছরে এ ধরনের প্রায় ২০০টি খামার গড়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করতে বসতি স্থাপনকারীরা অনেক সময় সরাসরি তাদের বাড়ির ভেতরেও মেষ প্রবেশ করিয়ে দিচ্ছেন। আল-মুঘাইয়ির গ্রামের এক ফিলিস্তিনি শিক্ষক ওয়াহিদ মারসৌউক জানিয়েছেন, দখলদারেরা এসে বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ভেড়া ঢুকিয়ে দেয় এবং বাড়ির চারপাশের গাছপালা খাইয়ে ও পিষে নষ্ট করে ফেলে।

 

এর ফলে বিগত বছরগুলোতে একশরও বেশি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় বাস্তুচ্যুত বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফিলিস্তিনিরা নিজেদের সীমানার মধ্যেই এখন চরম অবরুদ্ধ জীবন কাটাচ্ছেন।

 

এই সহিংসতার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে ‘হিলটপ ইউথ’ নামে পরিচিত উগ্র তরুণ মেষ পালকদের একটি দল। রোমাঞ্চ ও উগ্র মতাদর্শের বশে ভূমি দখলের মিশনে নামা ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী এই তরুণেরা ফিলিস্তিনিদের খামার ও বসতিতে নিয়মিত তাণ্ডব চালাচ্ছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর ১ হাজার ৬০০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। খামার ধ্বংস, জলপাই বাগান কাটা, গাড়ি ও সম্পত্তি পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলাও চালানো হচ্ছে।

 

মিনস্টারের খামার থেকে ঠিক পাহাড়ের নিচে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি মাহমুদ ও হাসান ফারাজ জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের পরিবারের এই জমির দলিল রয়েছে। জন্নাতাহ নামের তাদের গ্রামে গত মার্চ মাসে ২০ থেকে ২৫ জন বসতি স্থাপনকারী এসে জোরপূর্বক তাঁবু গেড়ে নিজেদের মালিকানা দাবি করে।

 

হানিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, বসতি স্থাপনকারীরা স্থানীয়দের বিদ্যুৎ ও পানি পর্যন্ত চুরি করছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনিদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে, যাতে তারা ভয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। প্রতিবাদ করতে গেলে লাঠিসোঁটা, পাথর ও অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এমনকি হামলায় পরিবারের সদস্য নিহত ও গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অথচ এসব ঘটনায় বিচার পাওয়ার আশা প্রায় শূন্যের কোঠায়।

 

ফিলিস্তিনিদের ওপর এই দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানালেও ইসরায়েলি সরকারের সদিচ্ছার অভাবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। উল্টো বসতি স্থাপনকারীদের অর্থায়ন ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। তবে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এখন কিছু ইহুদি অধিকারকর্মীও ফিলিস্তিনিদের পক্ষে মানব ঢাল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন না ঘটলে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার এই আগ্রাসন ও মানবিক বিপর্যয় আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন