ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

বাংলাদেশ, শিক্ষা

তেভাগা আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী ইলা মিত্রের আজ ২৪তম প্রয়াণ দিবস

তেভাগা আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী ইলা মিত্রের আজ ২৪তম প্রয়াণ দিবস

বাংলাদেশ, শিক্ষা

তেভাগা আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী ইলা মিত্রের আজ ২৪তম প্রয়াণ দিবস

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৮ ঘন্টা আগে

বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের মুক্তি সংগ্রাম, বিশেষ করে তেভাগা আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী ইলা মিত্রের ২৪তম প্রয়াণ দিবস আজ। ২০০২ সালের এই দিনে কলকাতার মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জন্মসূত্রে কলকাতার মানুষ হলেও বাংলার মাটি ও মেহনতি মানুষের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান তাঁকে অমর করে রেখেছে এ দেশের ইতিহাসে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর জোরালো ভূমিকা তাঁকে পরিণত করেছে বাংলাদেশের অকৃত্রিম ও বিশ্বস্ত ‘প্রবাসী বন্ধুতে’।

১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর কলকাতায় জন্ম নেওয়া ইলা সেন বিবাহসূত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের জমিদার পরিবারে প্রবেশ করেন। কিন্তু জন্মগতভিটে বা কুলমর্যাদার আভিজাত্য তাঁকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। স্বামী রমেন্দ্রনাথ মিত্রের হাত ধরে তিনি প্রবেশ করেন কৃষকের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। ‘তিন ভাগের দুই ভাগ ফসল কৃষকের’ এই ন্যায্য দাবিতে গড়ে ওঠা তেভাগা আন্দোলনে তিনি নাচোলের সাঁওতালসহ স্থানীয় কৃষকদের সংগঠিত করেন। শোষিত মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এই নারী হয়ে ওঠেন তাঁদের আস্থার প্রতীক, ভালোবেসে যাঁকে সবাই ডাকত ‘রানিমা’।

 

নাচোলের সেই কৃষক আন্দোলন দমনে তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকারের পুলিশ ও জোতদার বাহিনী চালায় নির্মম নির্যাতন। ঐতিহাসিক নাচোল বিদ্রোহের পর গ্রেপ্তার হয়ে অকথ্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন ইলা মিত্র। মিথ্যা মামলায় তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৯৫৪ সালে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতায় যেতে বাধ্য হন। এরপর রাজনৈতিক বাস্তবতায় আর পূর্ব বাংলায় ফেরা হয়নি তাঁর।

 

দেশ সীমানার ওপারে থিতু হলেও ইলা মিত্রের মন পড়েছিল এই বাংলার মানুষের সঙ্গেই। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ও তাঁর স্বামী রমেন্দ্র মিত্র ওপারের মাটিতে থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন, বিশ্ববাসীর দরবারে বাঙালি জাতির নায্য লড়াইয়ের কথা তুলে ধরা এবং শরণার্থীদের সহায়তায় অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তাঁর কলকাতার বাসভবন হয়ে উঠেছিল মুক্তিকামী মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম আশ্রয়স্থল ও যোগাযোগের কেন্দ্র। তাই রাজনৈতিক ভৌগোলিক সীমানা তাঁকে বাংলাদেশ থেকে দূরে রাখলেও মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী বন্ধু হিসেবে তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

 

পরবর্তী সময়ে কলকাতার শিক্ষাঙ্গনে অধ্যাপনা ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি আমৃত্যু কাজ করে গেছেন মেহনতি মানুষের পক্ষে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি লড়াই করেছেন বৈষম্যহীন এক সমাজের জন্য।

 

আজ তাঁর ২৪তম প্রয়াণ দিনে তাঁকে স্মরণ করা কেবল আনুষ্ঠানিক কোনো শ্রদ্ধা নিবেদন নয়; বরং তা কৃষকের শ্রমের মর্যাদা ও নায্য অধিকার নিশ্চিত করার দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রতি নতুন করে দায়বদ্ধ হওয়ার আহ্বান। ইলা মিত্রের আদর্শ ও তেভাগার চেতনা আজও আমাদের শিখায় শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিরদাঁড়া উঁচু করে বেঁচে থাকার মন্ত্র।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন