ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

খুলনায় নাকফুলের সূত্র ধরে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

খুলনায় নাকফুলের সূত্র ধরে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

সারা বাংলা

খুলনায় নাকফুলের সূত্র ধরে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

মোংলা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

নাকফুল ও থান কাপড়ের প্যান্টের সূত্র ধরে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করে ২ মাস পর ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত এবং দুই আসামি মো. মীর আলী (৪৮) ও মো. মীর আলী (৪৮)-কে গ্রেপ্তার করেছে মোংলা থানা পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে মোংলা-রামপালের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল এসপি) মো. রিফাতুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, মোংলা থানা পুলিশ কর্তৃক একটি নিখোঁজ জিডির সূত্র ধরে নিখোঁজের প্রায় ২ মাস পর ভিকটিমের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

 

গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মোংলা ফেরিঘাট-সংলগ্ন এলাকা থেকে মোংলা মালগাজী এলাকার আ. জবেদ আলীর মেয়ে আসমা বেগম (৩৯) নিখোঁজ হন। নিখোঁজের প্রায় ছয় দিন পর, গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি কর্তৃক বটিয়াঘাটা থানাধীন কাজিবাছা নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নৌ পুলিশের বেতার বার্তায় প্রচারিত ছবি প্রাপ্তির পর মোংলা থানা পুলিশ নিখোঁজ হওয়া আসমা বেগমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।

 

তদন্তের এ পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরদেহের পরিহিত প্যান্টটির সঙ্গে বাসায় থাকা অপর একটি প্যান্টের রং ও নকশার মিল পাওয়া যায়। প্যান্ট দুটি একই থান কাপড় থেকে তৈরি হওয়ায় বিষয়টি ভিকটিমের পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি মরদেহের নাকে থাকা নাকফুলটিও পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রহস্য উদ্‌ঘাটন করে ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তের ধারাবাহিকতায় দুই জেলায় অভিযান পরিচালনা করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য বিশ্লেষণের একপর্যায়ে আসামি ইকরামুল শেখ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনায় তার দায় স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এর মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পদ্ধতি, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এবং সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়াও গ্রেপ্তারকৃত আসামির কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

 

হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিরা হলেন- খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব এলাকার মৃত নুরুল শেখের ছেলে ইকরামুল শেখ (৪০) ও ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দেলুটিয়া এলাকার মৃত মোজাফফর হাওলাদারের ছেলে মো. মীর আলী (৪৮)। পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন