আন্তর্জাতিক, ভারত
ভারতে মদ্যপ যুবকদের মারধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মৃত্যু

ভারতের তামিলনাড়ুতে এক অজ্ঞাতপরিচয় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ভবঘুরে ছিলেন এবং ওই এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। স্থানীয়দের মতে, মাঝে মাঝে তার আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক হলেও তিনি কখনও কারও প্রতি আক্রমণাত্মক ছিলেন না।
হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ওই সাত স্থানীয় যুবকের বয়স ২২ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে এবং ঘটনার সময় তারা মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে জানায় পুলিশ। গত ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা প্রথমে ওই ব্যক্তিকে তাদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু পরে রাতে মদ্যপানের জন্য একত্রিত হওয়ার পর তারা আবারও তার ওপর চড়াও হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
স্থানীয় এক ওয়ার্ড মেম্বারের বাড়ির কাছের রাস্তায় তাকে ধরে শুকনো নারকেলের ডালপালা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে তারা। এতে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পানি খেতে চান।
অভিযোগ উঠেছে, এ সময় অভিযুক্তরা তাকে পানির বদলে মদ সেবনের প্রস্তাব দেয় এবং আবারও মারধর শুরু করে। তারা তাকে ধাওয়া করে গাছের ডাল ভেঙে এনে লাথি ও ঘুষিসহ নির্মমভাবে পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে লোকটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে তারা চলে যায়। পরে হামলার স্থান থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দেশটির পুলিশ নিশ্চিত করেছে, মূলাথারা বাঁধের কাছে অজ্ঞাতপরিচয় ওই মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪ ধারায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে কোনো অভিযুক্তের নাম উল্লেখ ছিল না। তবে পরবর্তীতে তদন্তের পর গ্রেপ্তারকৃত সাতজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তারা হলেন- কার্তিক, সঞ্জয়, মণিকন্দন ওরফে গুণাল, কাথিরেসান, নবীন, প্রশান্ত কুমার এবং সূর্যপ্রকাশ।
মামলাটি বর্তমানে বিএনএস-এর ১৯৪ ধারা থেকে পরিবর্তন করে ৩০২ (হত্যা) ধারায় উন্নীত করা হয়েছে। এদিকে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানতে পুরো তামিলনাড়ু জুড়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন