ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

অবশেষে ৪২ বছর বয়সে বই পড়তে শিখলেন যুক্তরাজ্যের লরিচালক

অবশেষে ৪২ বছর বয়সে বই পড়তে শিখলেন যুক্তরাজ্যের লরিচালক

আন্তর্জাতিক

অবশেষে ৪২ বছর বয়সে বই পড়তে শিখলেন যুক্তরাজ্যের লরিচালক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে

শৈশবের আংশিক বধিরতা ও উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে টানা ৪২ বছর অক্ষরজ্ঞানহীন ছিলেন পিটার লয়েড। লরি চালিয়ে এবং স্ত্রীর সাহায্যে কোনোমতে জীবন পার করছিলেন তিনি। কিন্তু কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় সুপারমার্কেটে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দীর্ঘ সংগ্রামের পর অবশেষে তিনি পড়তে ও লিখতে শিখেছেন, যা তার সামনে নতুন এক পৃথিবীর দ্বার উন্মোচন করেছে।

লকডাউনের সময় পিটারের জীবনে বড় ধরনের ধাক্কা আসে। তার স্ত্রী যখন তাদের ১০ বছরের ছেলেকে বাড়িতে পড়াচ্ছিলেন, পিটার সাহায্য করতে না পারায় চরম হীনমন্যতায় ভুগছিলেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় একদিন সুপারমার্কেটে। স্ত্রী ও ছেলের দুগ্ধজাত ও সয়া খাবারে অ্যালার্জি থাকায় তাদের জন্য নিরাপদ দুধ খুঁজতে গিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। ভুল খাবার কিনে পরিবারকে বিষক্রিয়ার মুখে ফেলার ভয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, এভাবে আর জীবন চলতে পারে না।

 

পিটারের এই সংগ্রামের শুরু শৈশব থেকেই। জন্ম থেকে আংশিক বধির হওয়ায় ল্যাঙ্কাশায়ারে বেড়ে ওঠার সময় ক্লাসের কোলাহলে শিক্ষকদের কথা তিনি বুঝতে পারতেন না। ছয় বছর বয়সে তাকে একটি বিশেষায়িত স্কুলে পাঠানো হলেও সেখানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। কানে অস্ত্রোপচারের পর শ্রবণশক্তি ফিরলেও, ততদিনে তাকে ক্লাসের পেছনে বসিয়ে রাখা হতো। 

 

১৬ বছর বয়সে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই, তোতলামি ও অক্ষরজ্ঞানহীন অবস্থায় তিনি স্কুল ছাড়েন। পরবর্তীতে নিজের কল্পনাশক্তি ও মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভর করে ২২ বছর বয়স থেকে লরি চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। রাস্তার চিহ্ন মুখস্থ করে এবং ভয়েস নেভিগেশনের সাহায্যে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

 

সুপারমার্কেটের সেই ঘটনার পর পিটার তার স্ত্রীকে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান। স্ত্রীর উৎসাহে তিনি ‘রিড ইজি’ নামের একটি দাতব্য সংস্থার সাথে যোগাযোগ করেন। সেখানে অ্যালিসন নামের একজন স্বেচ্ছাসেবকের তত্ত্বাবধানে তার নতুন যাত্রা শুরু হয়। পিটারের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল হ্যারি পটারের প্রথম বইটি পড়া। সপ্তাহে দু'দিন করে দীর্ঘ তিন বছর অধ্যবসায়ের পর তিনি সেই লক্ষ্য পূরণ করেন।

 

বর্তমানে পিটার লয়েড ‘রিড ইজি’-র একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। তিনি তার মতো সমস্যায় থাকা মানুষদের, বিশেষ করে যারা লজ্জায় বিষয়টি লুকিয়ে রাখেন, তাদের সাহায্য চাইতে উৎসাহিত করছেন। এখন তিনি ছেলের সাথে রান্নার রেসিপি পড়ে সময় কাটান এবং একাই বই পড়তে পারেন। ভবিষ্যতে ইংরেজিতে জিসিএসই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার এবং অন্যদের সহায়তা করার জন্য নিজের পেশা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন পিটার।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন