আন্তর্জাতিক
ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ফিরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রকে চড়া মূল্য দিতে হবে

ইরানের সাথে নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক সামরিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্কবার্তা উঠে এসেছে বিভিন্ন বিশ্লেষণে। উন্নত প্রযুক্তি ও বিপুল সমরশক্তি থাকা সত্ত্বেও অতীতে ইরানের বিরুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন।
ফলে তেহরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত হোয়াইট হাউসের জন্য এক জটিল সমীকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে আগের মার্কিন সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটনের সামরিক সম্পদের ওপর নজিরবিহীন চাপ পড়েছে। ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতেও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই বিপুল ক্ষতি স্বল্প মেয়াদে পূরণ করা প্রায় অসম্ভব।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে কেবল অস্ত্রের ব্যবহার বা হামলার সংখ্যা দিয়ে বিজয় নির্ধারিত হয় না; বরং ব্যয়ের তুলনায় কতটা কৌশলগত লক্ষ্য অর্জিত হলো, সেটাই আসল বিষয়। অতীতে ব্যাপক গোলাবারুদ খরচ করেও তেহরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাঙতে পারেনি পেন্টাগন। এমন পরিস্থিতিতে পুনরায় একই পথে হাঁটলে যুক্তরাষ্ট্রের কেবল ব্যয়ই বাড়বে, কোনো ফল মিলবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে। ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। অস্ত্র ও গোলাবারুদের এই মজুত দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়, কারণ এসব উন্নত প্রযুক্তি তৈরিতে বিশেষ কাঁচামাল ও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। এছাড়া বৈশ্বিক অন্যান্য অঞ্চলের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত অস্ত্র ব্যয়ের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে পেন্টাগনকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ব্যাপক মার্কিন চাপ ও হামলার মুখেও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার বড় একটি অংশ দ্রুত মেরামত ও পুনরুদ্ধার করে নিয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোনো দেশের প্রতিরোধ সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা না গেলে কেবল সাময়িক ক্ষতিসাধন করে যুদ্ধ জেতা যায় না। ইরানের এই ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নতুন সংঘাতকে ওয়াশিংটনের জন্য আরও অনিশ্চিত ও দীর্ঘমেয়াদি করে তুলতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে তা দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। ফলে হোয়াইট হাউসের সামনে এখন বড় প্রশ্ন নতুন করে বিপুল অর্থ ও অস্ত্র ক্ষয়ের বিনিময়ে আদৌ কোনো কৌশলগত লাভ আসবে কি না।
পূর্বের অভিযানগুলো যদি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তবে নতুন হামলা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ অপচয়ের আরেকটি পর্ব তৈরি করবে।
সূত্র: মেহের নিউজ
ডিবিসি/এমএনকে