বাংলাদেশ, সারা বাংলা
কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা ও তার দুই শিশু সন্তান পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রভাষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে।
রবিবার উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ শহিদুল ইসলাম।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ধানবোঝাই ট্রাক চাপায় ইজিবাইকের পাঁচ আরোহী নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম (২৬), ছেলে রিশাদ মিয়া (১২) ও মেয়ে তুবা (৭)।
নিহত অন্য দুজন হলেন যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী বাজার এলাকার বাদল মিয়ার স্ত্রী শরিফা বেগম (৪২) এবং রাজীবপুর উপজেলার মণ্ডলপাড়া গ্রামের ইজিবাইক চালক নজরুল ইসলাম (৪২)। তাদেরও রোববার সকালে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
শহিদুল ইসলামের স্ত্রী-সন্তানেরা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পান্তামারী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ বাজারের শিবেরডাঙ্গি এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
বিপরীত দিক থেকে আসা ধানবোঝাই একটি ট্রাক ইজিবাইকটিকে টিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও দুজন।
জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয় কলেজশিক্ষক একরামুল হক বলেন, শহিদুল ইসলামের দুই সন্তান তাঁর সন্তানের সঙ্গে পড়াশোনা করত। রিশাদ এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। তাকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য কোচিং করানোর পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। কিন্তু দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে শহিদুল ইসলাম বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
দুর্ঘটনায় বৃষ্টি খাতুন (২৫) নামে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সহকারী পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) রাসেল কবির বলেন, এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাক ও ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিবিসি/ আরএফই