ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে সুপারকম্পিউটারের সক্ষমতা

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে সুপারকম্পিউটারের সক্ষমতা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে সুপারকম্পিউটারের সক্ষমতা

সিরাজুর রহমান

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে কম্পিউটার নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নের কাজ শুরু হলেও মূলত বাস্তবে বিশ্বে প্রথম ডিজিটাল এবং প্রোগ্রামেবল কম্পিউটার নিয়ে গবেষণা ও তৈরির শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে। এই সময় যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করে ENIAC, যা ছিল প্রথম ব্যবহারযোগ্য প্রোগ্রামেবল কম্পিউটার। এর গবেষণা ও উন্নয়নের কাজ ১৯৪৩ সালে শুরু হলেও এটি সম্পন্ন হয় ১৯৪৫ সালে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় ১৯৪৬ সালে।

এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কন্ট্রোল ডাটা কর্পোরেশন তৈরি করে শক্তিশালী CDC‑6600 কম্পিউটার, বিশ্বের প্রথম সফল বাণিজ্যিক সুপারকম্পিউটার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। সাইমুর ক্রে ডিজাইন করা এই কম্পিউটারটি ছিল একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার।


CDC‑6600 বাণিজ্যিক সুপারকম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়েছিল প্রায় ৪ লক্ষ ট্রানজিস্টর, ১০০ মাইল ক্যাবল এবং ৬০‑বিট প্রসেসর। এর গতি ছিল প্রায় ৩ মেগাফ্লপস, যা তৎকালীন সময়ে বিস্ময়কর। এটি একসাথে একাধিক নির্দেশনা কার্যকর করতে পারত এবং এতে বিশেষ কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছিল।


এর দাম ছিল প্রায় ২.৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পারমাণবিক গবেষণা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও জটিল গাণিতিক হিসাবের জন্য বিশ্বজুড়ে এর প্রায় শতাধিক ইউনিট বিক্রি হয়েছিল। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত এটি ছিল বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার।


তবে বর্তমানে TOP500 তালিকার সর্বশেষ ৬৭তম সংস্করণ অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার হলো চীনের LineShine, যার ক্ষমতা ২.১৯৮ এক্সাফ্লপস। যুক্তরাষ্ট্রের El Capitan দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১.৮০৯ এক্সাফ্লপস ক্ষমতা নিয়ে। Frontier, Aurora এবং জার্মানির JUPITER Boosterও ইতোমধ্যেই এক্সাস্কেল সীমা অতিক্রম করেছে।


জাপানের তৈরি 'Supercomputer Fugaku' এখনও শীর্ষ দশে রয়েছে ৪৪২ পেটাফ্লপস ক্ষমতা নিয়ে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার হিসেবে সৌদি আরবের Shaheen III প্রায় ১২২.৮ পেটাফ্লপস গতি নিশ্চিত করে ২২তম স্থানে রয়েছে।


এছাড়া ভারতের Shakti Cloud ৮৪.৩১ পেটাফ্লপস ক্ষমতা নিয়ে বিশ্বে ৩২তম স্থানে রয়েছে, আর AIRAWAT‑PSAI ৮.৫ পেটাফ্লপস ক্ষমতা নিয়ে ২১১তম স্থানে রয়েছে। এছাড়া তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি ARF ACC সুপারকম্পিউটার ১২.০৯৪ পেটাফ্লপস ক্ষমতা নিয়ে এই তালিকায় ১৬৫তম স্থানে রয়েছে।


এদিকে বর্তমানে বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে সুপারকম্পিউটার না থাকলেও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি‑বাংলাদেশ (AIUB) দেশে প্রথম আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ AI সুপারকম্পিউটিং ল্যাব চালু করেছে, যেখানে ৪০ ইউনিটের NVIDIA DGX Spark ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি আমাদের দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।


আজকের দিনে বিশ্বের প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশগুলোতে সুপারকম্পিউটার বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মহাকাশ অনুসন্ধান, পারমাণবিক অস্ত্র সিমুলেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সীমিত ক্ষমতার হলেও সুপারকম্পিউটারের প্রথম যুগের ENIAC ও CDC‑6600 সুপারকম্পিউটার ছিল এই উচ্চ প্রযুক্তির বিপ্লবের মূল ভিত্তি ও প্রেরণা।
 

লেখক পরিচিতি: সিরাজুর রহমান,
শিক্ষক ও বিজ্ঞান‑প্রযুক্তি বিষয়ক লেখক

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন