আন্তর্জাতিক
পারমাণবিক প্রযুক্তির সাহায্যে অধিক ধান উৎপাদন করছেন বুরকিনা ফাসোর কৃষকরা

বুরকিনা ফাসোর কৃষকদের কাছে এখন ধানের অধিক ফলন বীজ বোনার অনেক আগেই শুরু হয়- বিজ্ঞানের হাত ধরে। দেশটির বিজ্ঞানীরা পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধানের আটটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। এগুলো শুধু দ্রুতই পাকে না, ফলনও দেয় অনেক বেশি এবং চালের মানও উন্নত। এর ফলে দেশটিতে স্থানীয়ভাবে খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে এবং আমদানিনির্ভরতা কমছে।
গত এক দশকে বুরকিনা ফাসোয় চালের চাহিদা দ্বিগুণ হলেও এর প্রায় অর্ধেকই আমদানি করতে হয়। তাই নিজেদের ধান উৎপাদন বাড়ানো এখন তাদের জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখানে ‘মিউটেশন ব্রিডিং’ বা বিকিরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, যা উদ্ভিদের জেনেটিক পরিবর্তনে গতি আনে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) ‘অ্যাটমসফরফুড’ (Atoms4Food) উদ্যোগের সহায়তায় এই সাফল্য এসেছে।
গবেষণাগার থেকে কৃষকের মাঠ পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখা এই আটটি নতুন জাত হেক্টরপ্রতি ৯ থেকে ১১ টন পর্যন্ত ফলন দিচ্ছে, যেখানে আগের জাতগুলো থেকে পাওয়া যেত মাত্র ৪ থেকে ৬ টন। নতুন জাতের ধানগুলো পাকতেও সময় লাগে মাত্র ৯৫ থেকে ১০৬ দিন। শুধু উৎপাদন বাড়ানোই নয়, ভোক্তাদের চাহিদার দিকেও নজর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন জাতগুলোর মধ্যে বড় দানার ধান, প্রতিরোধী স্টার্চ সমৃদ্ধ ধান এবং আঠালো চালও রয়েছে। কৃষি প্রকৌশলী ও পিএইচডি গবেষক গ্লোরিয়া কাব্রে বাঞ্জনের সমতল ভূমিতে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে এগুলো পরীক্ষা করেছেন, যেখানে হেক্টরপ্রতি সর্বোচ্চ ১১.৭৬ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে।
জোসেফ কি-জারবো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইমায়েল হেনরি নেস্টর বাসোলে এই অর্জনের বিষয়ে বলেন, ‘এই সাফল্যের তাৎপর্য শুধু আটটি নতুন জাত উদ্ভাবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আইএইএ এবং ফাও-এর অ্যাটমসফরফুড উদ্যোগের সহায়তায় আমরা বুরকিনা ফাসোর বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা এতটা বাড়াতে পেরেছি যে, এখন আমরা পরিবর্তিত আবহাওয়া এবং কৃষক ও ভোক্তাদের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ফসল উদ্ভাবন চালিয়ে যেতে পারব।’
ল্যাবের গণ্ডি পেরিয়ে কৃষকদের হাতে বীজ তুলে দিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিবন্ধনের কাজও শেষ হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে বুরকিনা ফাসোর জাতীয় উদ্ভিদ ও জাত তালিকায় এই নতুন জাতগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়। এটি দেশটির ধান গবেষণা ও উৎপাদন খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী অর্জন। এখন বাঞ্জান ও বামায় প্রদর্শনী প্লট তৈরি করে কৃষকদের মধ্যে এসব বীজ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।
এই অগ্রগতি নিয়ে ফাও ও আইএইএ-এর পারমাণবিক কৌশল বিষয়ক যৌথ কেন্দ্রের পরিচালক দংজিন ফেং বলেন, ‘বুরকিনা ফাসোর এই অগ্রগতি প্রমাণ করে যে, কীভাবে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি একটি দেশের জাতীয় গবেষণার সক্ষমতা বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে। অ্যাটমসফরফুড-এর মাধ্যমে আমরা এ ধরনের সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় টেকসই উন্নয়ন আনতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছি।’
উল্লেখ্য, ভবিষ্যৎ সহায়তার অগ্রাধিকার খাতগুলো চিহ্নিত করতে গত ২০২৫ সালের মে মাসে বুরকিনা ফাসোয় প্রথম যৌথ অ্যাটমসফরফুড মূল্যায়ন মিশন অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্র: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা
ডিবিসি/ এসভিএন