আন্তর্জাতিক
সুদানের বাজারে ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ৮০

সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বাজারের কাছে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরে এ হামলা চালানো হয়। নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন সাধারণ যাত্রী, যারা বাজার শেষে বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় জড়ো হয়েছিলেন।
আহমেদ ওয়াদি নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আল-দিবাব শহরের ওই হামলায় নিহত ৫০ জনকে তিনি নিজে দাফন করতে সহায়তা করেছেন, যার মধ্যে তার নিজের ভাই মোহাম্মদও ছিলেন। ওই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি আরও জানান, আহত অন্তত ৪৭ জনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী শহর আল-মুজলাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিকিৎসক জানান, আল-মুজলাদে আনার পর গুরুতর আহতদের মধ্যে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়। ফলে আল-দিবাবে ড্রোন হামলায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আল-মুজলাদ শহরে পৃথক আরেকটি ড্রোন হামলায় চারজন আহত হয়েছেন, যাদের চিকিৎসা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দু’বার ড্রোন থেকে বোমা ফেলা হয়। হাটবারের কেনাকাটা শেষে নিজ নিজ গ্রামে ফেরার উদ্দেশ্যে যাত্রীরা যখন পরিবহন কেন্দ্রে জড়ো হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এ হামলা চালানো হয়।
পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যটি বর্তমানে আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আরএসএফ-ঘোষিত স্থানীয় প্রশাসন তাসিস এই হামলার জন্য সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বাধীন সুদানের সেনাবাহিনী (এসএএফ) এবং মোহাম্মদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বাধীন আধাসামরিক আরএসএফ-এর মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু হয়। সংঘাত শুরুর পর এটি অন্যতম প্রাণঘাতী একক হামলার ঘটনা।
সাম্প্রতিক সময়ে সুদানের গৃহযুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে দেশটিতে অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, যা এই সময়ের মোট সংঘাতজনিত বেসামরিক মৃত্যুর ৮০ শতাংশেরও বেশি। এর আগে গত শুক্রবার দক্ষিণ দারফুর রাজ্যের রাজধানী নায়ালায় একটি পশুর হাটে ড্রোন হামলায় ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার দাবি করে আরএসএফ, যদিও সেনাবাহিনীর দাবি ছিল তারা আরএসএফ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
বিদেশি শক্তির ইন্ধনে চলা এ রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ইতোমধ্যে লাখো মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের রাজনীতি ও শান্তিবিনির্মাণ বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রোজমেরি ডিকার্লো সম্প্রতি নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করে বলেছেন, সুদানের সংঘাত ও মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। উভয় পক্ষই আলোচনার পরিবর্তে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজয় অর্জনে বেশি আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/এমএনকে