আন্তর্জাতিক
ইরানের সঙ্গে সীমান্তে বাণিজ্য স্থগিত করল পাকিস্তান

ইরানের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিংয়ে হঠাৎ বাণিজ্য কার্যক্রম স্থগিত করেছে পাকিস্তান। এর ফলে উভয় সীমান্তে পণ্যবাহী প্রায় ২ হাজার ট্রাক আটকা পড়েছে। গত শনিবার বেলুচিস্তান প্রদেশের তাফতান এবং গাব্দ-রিমদান ক্রসিং দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
তবে বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও গাব্দ-রিমদান ক্রসিং দিয়ে যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থা ‘ওয়ানা’।
সীমান্ত বন্ধের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে তাফতান ক্রসিং যে জেলায় অবস্থিত, সেই চাগাইয়ের ডেপুটি কমিশনার বখতিয়ার ইসমাইল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা জোরদার এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সাময়িকভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তা পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের স্বার্থে সীমান্ত দিয়ে পণ্য ও যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্ত বন্ধের পেছনে নিরাপত্তার কথা বলা হলেও এর পেছনে বৃহত্তর কৌশলগত কারণ ও ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করে আসছিল। তবে ওয়াশিংটন সম্প্রতি ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে এবং পাকিস্তানও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে পাকিস্তানের ওপর মার্কিন চাপ এই সীমান্ত বন্ধের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
পাকিস্তান ও ইরান উভয় দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলই বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের তৎপরতা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তীব্র আকার ধারণ করেছে। কেবল জুলাই মাসেই প্রদেশটিতে ৬২ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন এবং সম্প্রতি পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের ওপর হামলা-অপহরণের ঘটনা বেড়েছে।
একইভাবে সীমান্তের ওপারে ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশেও ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে ‘জইশ আল-আদল’। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে, যদিও ইসলামাবাদ বরাবরই তা অস্বীকার করেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকলে তা ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/এমএনকে