ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

কৃষি

সৌর সেচে বদলে যাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি

সৌর সেচে বদলে যাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি

কৃষি

সৌর সেচে বদলে যাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি

বাসস

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে

সরকারি উদ্যোগে সৌরশক্তিচালিত আধুনিক সেচ ব্যবস্থার ফলে দেশের কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। এতে কৃষকের সেচ বাবদ উৎপাদন খরচ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসার পাশাপাশি বাড়ছে ফসলের উৎপাদন।

একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও জীবাশ্ম জ্বালানি বা ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমেছে। বিশেষ করে তীব্র খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখছে।

 

‘রাজশাহী বিভাগ কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)-এর যৌথ উদ্যোগে বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গত দুই বছরে ৩২টি সোলার সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। 

 

রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার ৬৭টি উপজেলার প্রায় ৩ হাজার ২০০ কৃষক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চলমান এই প্রকল্পে স্থায়ী ফিক্সড ইউনিট, ভ্রাম্যমাণ পোর্টেবল ইউনিট এবং আধুনিক ফলবাগানের জন্য ড্রিপ ইরিগেশন বা ফোঁটায় ফোঁটায় সেচ প্রযুক্তিসম্পন্ন প্রিসিশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।

 

কৃষিবিদদের মতে, বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় পানির অপচয় রোধে এই ড্রিপ ইরিগেশন প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি গাছের গোড়ায় পরিমিত পানি পৌঁছানোর কারণে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে, আগাছার উপদ্রব কমে এবং ফলের গুণগত মান বাড়ে। 

 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে ডিজেলচালিত পাম্পের পেছনে আয়ের বড় অংশ ব্যয় হতো এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হতো; এখন সৌরবিদ্যুতের কারণে কোনো ঝামেলা ও খরচ ছাড়াই অনায়াসে বাগান ও জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খরাপ্রবণ এলাকায় যেখানে গভীর নলকূপের কার্যক্ষমতা কমে গিয়েছিল, সেখানে সোলার পাম্প চালুর পর অনাবাদি জমিতেও বছরে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে ফসলের নিবিড়তা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

 

সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে এই সোলার পাম্পগুলো ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত অনায়াসে সেবা দেবে, যা বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিকে জলবায়ু সহনশীল, আধুনিক ও টেকসই করতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন