ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

বাংলাদেশ, সারা বাংলা

নাটোরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত অন্তত ৩০

নাটোরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত অন্তত ৩০

বাংলাদেশ, সারা বাংলা

নাটোরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত অন্তত ৩০

নাটোর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

নাটোরের বড়াইগ্রামে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর চারটার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে সরকার পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), একই উপজেলার বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শালাল মোল্লা (৪৫), কাজীরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), জাজিরা উপজেলার সামাদ (৭০), কাশেম (৩৫) ও জহুর উদ্দিন। এ ছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির চালক রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে সোহেল রানাও (৪০) নিহত হয়েছেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসের আহত যাত্রীদের অভিযোগ, যাত্রাবিরতির পর থেকেই চালক চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যাত্রীরা বারবার সতর্ক করলেও চালক তাতে কর্ণপাত করেননি। শেষ পর্যন্ত ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এই বিপর্যয় ঘটে। এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই আহত যাত্রীদের মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

 

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসক সুমনি আখতার, পুলিশ সুপার শরিফুল হক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

 

নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল হক জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বাসে থাকা প্রায় সব যাত্রীই কম-বেশি আহত হয়েছেন। চিকিৎসকরা গুরুতর আহতদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

জেলা প্রশাসক সুমনি আখতার নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালের ২৫ আগস্ট একই মহাসড়কের কদিমচিলান এলাকায় বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন