ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

শরীয়তপুরে ফোনে মুক্তিপণ দাবি, পরদিন হোটেলে মিলল শিক্ষকের মরদেহ

শরীয়তপুরে ফোনে মুক্তিপণ দাবি, পরদিন হোটেলে মিলল শিক্ষকের মরদেহ

সারা বাংলা

শরীয়তপুরে ফোনে মুক্তিপণ দাবি, পরদিন হোটেলে মিলল শিক্ষকের মরদেহ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আবুল বাশার তালুকদার (৩৯) নামে এক সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ভেদরগঞ্জ থানা ব্রিজসংলগ্ন ‘ঢাকা আবাসিক হোটেল’-এর দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবুল বাশার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নম্বর খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার পর থেকেই হোটেলটির মালিক আতাউর রহমান হোসেন পলাতক রয়েছেন।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরের বাড়ি থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নে দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আবুল বাশার। পথিমধ্যে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে আছেন বলে পরিবারকে জানান। তবে সোমবার থেকে পরিবারের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

 

স্বজনদের অভিযোগ, এরপর আবুল বাশারের ব্যক্তিগত মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তার স্ত্রীর কাছে ফোন করে চিকিৎসার কথা বলে প্রথমে দুই হাজার এবং পরবর্তীতে বিশ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ সময় স্ত্রীর পক্ষ থেকে অবস্থান জানতে চেয়ে সেখানে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বলা হলেও ফোনের অপর প্রান্ত থেকে কোনো পরিচয় বা সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। একপর্যায়ে আবুল বাশারের শুয়ে থাকার একটি ছবি পাঠানো হয় এবং টাকা না দিলে ‘মরদেহও খুঁজে পাওয়া যাবে না’ বলে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিবার বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনের আর কোনো সাড়া মেলেনি।

 

উদ্বিগ্ন পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় বিষয়টি অবহিত করে। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ট্র্যাক করে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানা এলাকার পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আশপাশে অবস্থান শনাক্ত করে। রাতেই স্বজনরা ভেদরগঞ্জে পৌঁছে থানা-পুলিশের শরণাপন্ন হন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় ঢাকা আবাসিক হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহতের ভাগিনা কবির হোসেন এবং বড় ভাই মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আবুল বাশারকে পরিকল্পিতভাবে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে হত্যা করা হয়েছে। তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে গোসাইরহাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল আরেফীন জানান, আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আলামত সংগ্রহ ও তদন্তের জন্য পুলিশের ক্রাইম সিন টিম কাজ করছে। হোটেলমালিকের পলাতক থাকা এবং মোবাইল থেকে অর্থ দাবির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন