সারা বাংলা, অপরাধ
চট্টগ্রামে চালককে অচেতন করে ১৬ লাখ টাকার চিনিসহ কাভার্ডভ্যান ছিনতাই

চট্টগ্রামের পটিয়ায় চালককে ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে ১৬ লাখ টাকার চিনিসহ একটি কাভার্ডভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার মনসা বাদামতল এলাকা থেকে ওই চালককে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন অন্য চালকরা। উদ্ধার হওয়া চালকের নাম আলমগীর। তিনি চাঁদপুরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ছিনতাই হওয়া চিনির আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ টাকা এবং কাভার্ডভ্যানটির মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে আবুল কালাম আজাদ নামে অপর এক কাভার্ডভ্যানচালক আলমগীরকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আবুল কালাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাস্তার পাশে বাদামতল এলাকার একটি চায়ের দোকানে আলমগীরকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে সামান্য হুঁশ ফিরলে তাঁকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। আলমগীরের ভাষ্যমতে, তাঁকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করা হয়েছিল।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শামা জানান, বুধবার সকালে অচেতন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর শরীরে চেতনানাশক কোনো পদার্থ প্রবেশ করানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যানটি (যশোর-ট-১১-৪৬৫৭) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার পরিবহন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান 'জাহিদ ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট' ভাড়ায় নিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন জানান, মেঘনাঘাটের মেঘনা সুগার মিল থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর ২৮ টন চিনি পরিবহনের জন্য গাড়িটি ভাড়া করা হয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় ফুলকলি কারখানায় ১৩ টন চিনি আনলোড করা হয়। বাকি ১৫ টন চিনি পটিয়ায় ফুলকলির কারখানায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
জাকির হোসেন আরও বলেন, "মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে চালক আলমগীরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। তখন সে জানায়, গাড়ির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ায় মইজ্যারটেক এলাকায় গাড়ি থামানো হয়েছে। ত্রুটি সারিয়ে পটিয়ার নাইখাইন এলাকার কারখানায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। বুধবার সকালে অন্য একজন চালক ফোন করে আলমগীরকে হাসপাতালে ভর্তির খবর জানান।" গাড়িটিতে কোনো হেলপার বা সহকারী ছিল না বলেও জানান তিনি।
এদিকে, চিনি সরবরাহকারী খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম এ ঘটনায় চালক আলমগীরকে সন্দেহ করছেন। তিনি বলেন, "মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৩ টন চিনি আনলোড হওয়ার পর রাতে যখন চালকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তখন সে বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছিল এবং গাড়ির নানা সমস্যার কথা জানাচ্ছিল। তাঁকে ঠিকমতো জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।"
সার্বিক বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছে, বিস্তারিত জেনে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিবিসি/এমকেএ