সারা বাংলা
নাটোরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে শেয়ালের কামড়ে আহত ১১ জন

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সন্ধ্যার পর প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে শেয়ালের কামড়ে নারী-পুরুষসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আহতদের মধ্যে দুজন নারী ও নয়জন পুরুষ রয়েছেন। তারা হলেন, বাগাতিপাড়া পৌরসভার ঘোরলাজ মহল্লার সামছুলের ছেলে স্বাধীন (২৭), মসলেম আলীর ছেলে আসলাম (৪৭), নওশেরা মহল্লার মৃত মতিউর রহমান খান লালার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান খান মিঠু (৫০), বারইপাড়া মহল্লার লাটু সরকারের ছেলে মাইনুল (৫০), সোনাপাতিল মহল্লার মৃত ইয়াসিন সরকারের ছেলে আকরামুল সরকার ঝড়ু (৫২), মৃত নিজাম আলীর মেয়ে নাজনিন আক্তার (৪২) ও চেরান আলীর শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৫০), পেড়াবাড়িয়া (পূর্ব সোনাপাতিল) মহল্লার মৃত আবেদ আলীর ছেলে ইমরান হোসেন (৪২), এছাড়া উত্তর মুরাদপুর মহল্লার পলি খাতুন (১৮) নামের এক কিশোরী। এছাড়াও আক্তার (৬২) নামে এক ব্যক্তি ও ১৮ বছরের বাঁধন নামের এক কিশোর রয়েছেন, যাদের ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
আহত ইমরান জানান, তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬ ঘটিকার দিকে বাসা থেকে কিছু কেনার উদ্দেশ্যে মালঞ্চি রেলস্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় স্টেশনের পাশে ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্র (সেন্টার) এলাকায় তার পেছন থেকে হঠাৎ করে একটি শিয়াল পায়ে কামড় দেয়। এ সময় পা ঝটকা দিলে শিয়াল তার প্যান্টের কিছু অংশ ছিঁড়ে নিয়ে যায়।
কিশোরী পলি খাতুন জানান, সন্ধ্যার দিকে তিনি বাগাতিপাড়া হাসপাতাল থেকে মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় উপজেলা চত্বরে শেয়ালের কামড়ের শিকার হন।
নওশেরা মহল্লার মোস্তাফিজুর রহমান খান মিঠু বলেন, তিনি নিজ বাড়ি থেকে বিহারকোল বাজারে যাওয়ার পথে তার পায়ে শিয়াল আক্রমণ করে।
ঘোরলাজ মহল্লার স্বাধীন জানান, তিনি পাড়ার রাস্তায় হাঁটছিলেন, হঠাৎ তার পেছনে কিছু একটা আছে মনে করে পেছনে তাকাতেই তার পেটের ডান দিকে শিয়াল কামড় দেয়। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে শিয়ালটি পালিয়ে যায়।
এছাড়া সোনাপাতিলের আকরামুল সরকার ঝড়ু, রিজিয়া বেগম ও বারইপাড়া মহল্লার মাইনুলকে তাদের বাড়ির সামনে সড়কে শিয়াল আক্রমণ করে।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামুন আল হাসান সৌমিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে শেয়ালের কামড়ে আহত প্রথম রোগী হাসপাতালে আসেন। এরপর একে একে আরও আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে মোট ১১ জন শেয়ালের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তিনি আরও জানান, এখানে চিকিৎসা নিতে আসা প্রত্যেককেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শেয়ালের কামড়ের শিকার ব্যক্তিদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. শামুন আল হাসান সৌমিক। একই সঙ্গে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন