আন্তর্জাতিক
জন্মদিনে মায়ের উপহার দেয়া বন্দুক দিয়ে ৪ জনকে হত্যা করল কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে গত সপ্তাহে তিন শিশু ও এক শিক্ষককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি হামলাকারীকে জন্মদিনের উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন তার মা। সিবিএস নিউজকে সূত্র জানিয়েছে, ম্যাভেরিক ৮৮ পাম্প-অ্যাকশন ১২-গেজ শটগানটি গত আগস্ট (২০২৬) মাসে শন্টি নিকারসন বৈধভাবে কিনেছিলেন। পরে বিনোদনের উদ্দেশ্যে তিনি এটি তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে গ্রিফিন জে. জন দ্বিতীয়কে উপহার দেন।
২০২০ সালে স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেল কেটিভিজেড-কে নিকারসন জানিয়েছিলেন, তার ছেলের বিশেষ চাহিদা রয়েছে এবং মহামারির সময় ঘরে বসে পড়াশোনা করতে তার কষ্ট হচ্ছিল। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার ছেলের জন্য আবার সেখানে ফিরে যাওয়া এবং দক্ষ শিক্ষকদের কাছ থেকে তার প্রয়োজনীয় সাহায্যটুকু পাওয়া দারুণ একটি ব্যাপার হবে।’
হামলার দিনের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী প্রথমে রাস্তায় চলন্ত একটি পিকআপ ট্রাক লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সেই ট্রাকের চালকই প্রথম ৯১১-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন। এরপর স্কুলের প্রধান ডাবল ডোরের কাঁচ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে জোরপূর্বক ভেতরে ঢোকে সে। ঢোকার পর বাঁ দিকের প্রথম শ্রেণিকক্ষটিতে গিয়ে গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করে এবং দুজনকে আহত করে। সোমবার পুলিশ নিশ্চিত করেছে, সে সময় ওই শ্রেণিকক্ষে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং পাঁচ শিশুসহ মোট নয়জন উপস্থিত ছিল।
নিহত তিন শিশুর বয়স যথাক্রমে ৫, ৮ এবং ১১ বছর। নিহত শিক্ষকের নাম মেগান ল্যাম্বার্ট (২৫)। নিহত ৫ বছর বয়সী শিশুর নাম রোম সামার বলে পুলিশ ও তার পরিবার শনাক্ত করেছে। তবে বাকি দুই শিশুর পরিবারের অনুরোধে তাদের নাম প্রকাশ করেনি বেন্ড পুলিশ। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু এবং ৫৪ বছর বয়সী আরেক শিক্ষক।
হামলাকারীকে শেষ পর্যন্ত কাইলুব জিয়াম্যানকো (৩৬) নামের এক পথচারী গুলি করে হত্যা করেন। তিনি পিকআপ ট্রাকে প্রথম হামলার ঘটনাটি দেখেছিলেন এবং এরপর হামলাকারীর পিছু নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করেন। বেন্ডের বাসিন্দা জিয়াম্যানকোর নিজেরও দুই মেয়ে ওই স্কুলের শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী এই সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র ছিল। তবে এই হামলার পেছনে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো জানা যায়নি। সোমবার বেন্ড পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, স্কুলে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শেষ করে ভবনটি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে। এদিকে, হামলাকারীর কম্পিউটার, ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইনে তার যাবতীয় গতিবিধি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সূত্র: ইয়াহু নিউজ
ডিবিসি/ এসভিএন