ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক, ভারত

‘যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেবো না’, আদালতে প্রতিশ্রুতি ২ ককরোচ নেতার

‘যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেবো না’, আদালতে প্রতিশ্রুতি ২ ককরোচ নেতার

আন্তর্জাতিক, ভারত

‘যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেবো না’, আদালতে প্রতিশ্রুতি ২ ককরোচ নেতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

বৃহঃস্পতিবার ২২শে অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে বাতিল করার পর সেখানে আর কোনো বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলে আদালতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। ৭ দিন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর বুধবার (২১ অক্টোবর) স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালত থেকে তারা মুক্তি পান।

আদালতের আদেশে দাস এবং রাঙ্কা অভিন্ন ভাষায় জানিয়েছেন, ‘আমি শান্তি ভঙ্গ না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। পাশাপাশি এসইএম আদালতসহ বিচারব্যবস্থা এবং এর সকল কাঠামোর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’ মুচলেকাতে তারা আরও বলেন, ‘শান্তি, আইনশৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তার প্রতি আমরা আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে, আইন অনুযায়ী যন্তর মন্তরকে পুনরায় প্রতিবাদস্থল হিসেবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত সেখানে কোনো বিক্ষোভের ডাক দেয়া হবে না। আমরা আরও বলতে চাই যে, ভবিষ্যতে যেকোনো প্রতিবাদ সংবিধানের গণ্ডির মধ্যেই করা হবে।’


ম্যাজিস্ট্রেট তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত ও জামিন বন্ড দাখিলের নির্দেশ দিয়ে মুক্তির আদেশ দেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। আগামী শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সৌরভ দাস বলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে।’ যদিও দিল্লি পুলিশ তাদের আরও তিন দিনের জন্য হেফাজতে নেয়ার আবেদন করেছিল।


গত ১৪ অক্টোবর থেকে এই দুই নেতা বিচার বিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন। এর আগে ১৩ অক্টোবর তারা যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং প্রতিবাদস্থল হিসেবে এর বাতিল হওয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা নেড়ে বিক্ষোভ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, তাদের এই কাজ মূলত শান্তি চুক্তির লঙ্ঘন। কারণ, কথিত নির্বাচনী জালিয়াতির বিরুদ্ধে ১০ অক্টোবর বিক্ষোভের ডাক দেয়ার পর তাদের আটক করা হয়েছিল এবং সে সময় তারা একটি শান্তি চুক্তিতে সই করেছিলেন।


সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকের অভিযোগ, এই দুই নেতাকে আটকে রাখার জন্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে সোমবার তাদের হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানো হলে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় দলটি।


বুধবার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট বন্ড লঙ্ঘনের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘আপনারা প্রতিবাদের প্রথম সারিতে আছেন। আপনারা যখন ব্যারিকেড ভাঙবেন, তখন আরও অনেকের আপনাদের অনুসরণ করার আশঙ্কা থাকে। সেখানে এমন মানুষও থাকতে পারে যারা আপনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।’ কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বেঞ্চ আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের বাইরেও এমন ঘটনা ঘটতে দেখেছি। যা ছাত্রবিক্ষোভ হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা পরে অগ্নিসংযোগ ও ভবন পোড়ানোর মতো ঘটনায় রূপ নেয়।’


শুনানিকালে বেঞ্চ এই দুই নেতার বয়স জানতে চান। তাদের বয়স ২৭ ও ৩১ বছর শুনে আদালত মন্তব্য করেন যে, তারা জেন জি প্রজন্মের নয়, অথচ চলমান আন্দোলনগুলোতে মূলত এই প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি সরব ভূমিকা পালন করছে।


বর্তমানে সিজেপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, তিনি একতরফাভাবে কাজ করছেন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনীতে অনিয়ম হয়েছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোও একই ইস্যু তুলে ধরেছে।


সূত্র: এনডিটিভি


ডিবিসি/ এসভিএন

আরও পড়ুন