আন্তর্জাতিক
যুদ্ধ বন্ধে শর্তসাপেক্ষে ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি পুতিন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে এই যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় তিনি নিজে সরাসরি টেবিলে উপস্থিত থাকবেন না। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিন দেশের মধ্যে এই আলোচনা ‘প্রযুক্তিগত পর্যায়ে’ অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে পুতিন সরাসরি মুখোমুখি হবেন না।
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে পুতিনের এক বৈঠকের পর মস্কোর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, আগামী ১০ নভেম্বরের পর আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পুতিন ‘নীতিগতভাবে’ সম্মতি দিয়েছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার নরওয়ের অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ। সেখানে কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গ্যারান্টি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার তহবিল এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর সেই প্রস্তাবটি পুতিনের কাছে তুলে ধরতে তিনি রাশিয়ায় যান।
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, ‘গতকাল জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষ ‘যুদ্ধপরবর্তী অর্থনীতি ও সমৃদ্ধি পরিকল্পনা, ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো এবং আসন্ন ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে।’ ওই কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার অসলোতে ইউক্রেন ত্রিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়ে সম্মতি দেয় এবং বুধবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়াও এতে রাজি হয়।
উশাকভ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের ত্রিপক্ষীয় আলোচনাগুলো মূলত ‘সংঘাত শেষ হওয়ার পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের জন্য একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার’ ওপর জোর দেবে। এর মধ্যে ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিষয়টিও থাকতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এদিকে, উইটকফের সঙ্গে মঙ্গলবারের বৈঠকের পর জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানান, শান্তি প্রস্তাবে ‘শক্তিশালী’ নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং মার্কিন পক্ষের কাছ থেকে ‘ইতিবাচক সংকেত’ রয়েছে।
এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রগতির পরপরই ৭২ বছর বয়সী মার্কিন শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধ শুরুর পর পূর্ব ইউক্রেন থেকে রুশ বাহিনী তাকে বন্দি করেছিল। মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘স্টিভ এবং জ্যারেড মার্কিন নাগরিক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বিমান বাহিনীর প্রবীণ সদস্য স্টিফেন হাবার্ডের মুক্তির জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।’ তিনি আরও জানান, হাবার্ড আজ যুক্তরাষ্ট্রে তার পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিদেশে অন্যায়ভাবে আটক সকল মার্কিনিকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
গত চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প এবং জেলেনস্কির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের বিরোধিতা করে আসছিলেন পুতিন। এর মধ্যে গত সপ্তাহে রুশ হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সক্ষমতা হারানো, ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় পুতিনের হামলা এবং প্রেসিডেন্টের নানা সমালোচনার জেরে ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির কিছুটা মতবিরোধ দেখা দেয়। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ধ্বংসের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ধস নামায় ট্রাম্প বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। এর জেরে গত ৯ অক্টোবর পুতিনের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কিছু পরিমাণ তেল কেনার বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণাও দেন ট্রাম্প।
তাছাড়া, গত সপ্তাহে ইউক্রেনের স্পেসএক্সের সামরিক-গ্রেডের স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করা হয়, যা রুশ ড্রোন হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের সক্ষমতা ব্যাহত করে। এই ইন্টারনেট বিভ্রাটের পেছনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন বা ইলন মাস্কের সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পর নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হলেও, ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর সঙ্গে ইচ্ছাকৃত মার্কিন সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। বুধবার রুবিও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনসহ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা না থাকলে, এখন কোনো ইউক্রেনের অস্তিত্বই থাকত না।’
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ডিবিসি/ এসভিএন