ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

পঞ্চগড়ে বালাইনাশক প্রয়োগে ৩ বিঘা জমির করলা গাছ নষ্টের অভিযোগ কৃষকের

পঞ্চগড়ে বালাইনাশক প্রয়োগে ৩ বিঘা জমির করলা গাছ নষ্টের অভিযোগ কৃষকের

সারা বাংলা

পঞ্চগড়ে বালাইনাশক প্রয়োগে ৩ বিঘা জমির করলা গাছ নষ্টের অভিযোগ কৃষকের

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বালাইনাশক প্রয়োগের পর প্রায় তিন বিঘা জমির করলার বাগান ও লাউ বাগান নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষক ইসলাম উদ্দিন। ধারদেনা করে গড়ে তোলা বাগানে ভালো ফলন হলেও দুই দফা করলা বিক্রির পরই দেখা দেয় বিপর্যয়। গাছের ডগা মরে যাচ্ছে, বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ছে ফল। বাগানের এমন অবস্থা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই কৃষক।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইসলাম উদ্দিন আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর তেলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার অভিযোগ, আটোয়ারী উপজেলা সদরের ফকিরগঞ্জ বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকান থেকে পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেডের ‘এম পেড’ নামের জৈব বালাইনাশকের এক হাজার মিলিলিটারের বোতল ১ হাজার ১০০ টাকায় কেনেন তিনি। গত ১৮ অক্টোবর জমিতে নিয়ম অনুযায়ী বালাইনাশকটি স্প্রে করেন। পরদিন থেকেই গাছগুলো বিবর্ণ হতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার জমিতে গিয়ে দেখেন, প্রায় তিন বিঘা জমির করলার গাছ ঝলসে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ফলন।

 

ইসলাম উদ্দিন বলেন, এম পেড নামের বালাইনাশক দেওয়ার পরই আমার তিন বিঘা জমির করলার বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে আর ফলন হবে না, গাছ মরে গেছে। বাগান করতে দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। ধারদেনা করে আবাদ করেছিলাম। এখন এই লোকসান সামলাব কী করে? যারা এমন বালাইনাশক বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ চাই।

 

কৃষকের অভিযোগ, বালাইনাশক কেনার আগে কোম্পানির প্রতিনিধি ঘন ঘন যোগাযোগ করলেও ফসল নষ্ট হওয়ার পর তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, বিক্রেতাও দায় নিতে চাইছেন না। ফলে ঋণের বোঝা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।

 

স্থানীয় কৃষক রুবেল আলী বলেন, আমাদের এলাকায় ইসলাম উদ্দিনের বাগানেই সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছিল। অথচ এই বালাইনাশক দেওয়ার পর পুরো বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এই ক্ষতির দায় কে নেবে? সরকারকে এমন বালাইনাশকের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

আব্দুল কুদ্দুস নামে আরেক কৃষক বলেন, ইদানীং বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা এলাকায় এসে কৃষকদের নানা কথা বুঝিয়ে তাদের পণ্য কিনতে উৎসাহিত করেন। কিন্তু এসব পণ্য ব্যবহারের পর কোনো কৃষকের ক্ষতি হলে অনেক সময় তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কীটনাশক বিক্রেতা আনিছুর রহমান লেবু বলেন, এই বালাইনাশক আরও অনেক কৃষক নিয়েছেন। তাদের তো কোনো ক্ষতি হয়নি। নিশ্চয়ই তিনি ঠিকভাবে স্প্রে করতে পারেননি।

 

এ বিষয়ে পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিনিধির সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন
 

আরও পড়ুন