সারা বাংলা
শখ করে বাসায় পুষছিলেন গোখরা, কামড় খেয়ে হাসপাতালে কাঠমিস্ত্রি

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামের ইকবাল হোসেন (৪৫) শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন ইকবাল। এ সময় সাপটি তাঁর হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকান্দি গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে। পরে ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল।
তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।
ইকবালের ভাই ইসলাম হোসেন বলেন, আমরা বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়রা ভাইকে সাপটি না পুষতে বারবার নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু শখের কারণে কারও কথা শোনেননি তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে সাপটিকে খাবার দিতে গিয়ে সেটির কামড়ের শিকার হন।
এ দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইকবাল বাক্স খুলে সাপটিকে খাবার দিতে যান। খাবার রাখার সময় সাপটি তাঁর ডান হাতে ছোবল মারে। এ সময় তার চিৎকারে স্বজনেরা সেখানে ছুটে আসেন। কিছুক্ষণ পর বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
ইকবালকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার বলেন, তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন