ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা, মনে রাখতে পারেন না সব সন্তানের নাম

৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা, মনে রাখতে পারেন না সব সন্তানের নাম

আন্তর্জাতিক

৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা, মনে রাখতে পারেন না সব সন্তানের নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে

আফগানিস্তানের ৫৭ বছর বয়সী মুহাম্মদ সাদেকের চার স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নিয়েছে ৭০টিরও বেশি সন্তান। তাদের মধ্যে ৫৮ জন বেঁচে আছে। সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স মাত্র তিন মাস। বিশাল এই পরিবারের ভরণপোষণ করতে প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছেন সাদেক। সন্তানের সংখ্যা এত বেশি যে সবার নামও মনে রাখতে পারেন না তিনি।

বিবিসি গ্লোবাল উইমেনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পরিবারটির দুর্দশার চিত্র। কখনো খাবার ছাড়াই ঘুমাতে হয় শিশুদের। সবার জন্য জুতা কেনার সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই খালি পায়ে চলাফেরা করে।

 

পরিবারটি থাকে কাদামাটির তৈরি ঘরে। ঘরগুলোতে ঠিকমতো দরজা-জানালা নেই। পাতলা পর্দা দিয়ে ভেতরটা আড়াল করা হলেও তা ঠান্ডা কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে পারে না। রান্নার জ্বালানি কাঠ কেনার অর্থও সব সময় থাকে না। তাই কখনো কাগজ জ্বালিয়ে রান্নার আগুন ধরাতে হয়।

সাদেক একটি গাড়ির বিক্রয়কেন্দ্রে কাজ করেন। প্রতিটি গাড়ি বিক্রির বিনিময়ে কমিশন হিসেবে পান এক হাজার আফগানি, যা প্রায় ১৫ ডলারের সমান। এই কমিশনই পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস। ফলে সন্তানদের খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাদেক জানান, সব সন্তানের নাম মনে রাখতে না পারায় বেশির ভাগ সময় তাদের ‘ছেলে’ কিংবা ‘বাচ্চা’ বলে ডাকেন। পরিবারের প্রতি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি বলেও স্বীকার করেন তিনি।

 

সাদেকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তার চার স্ত্রীই খুব কম বয়সী ছিলেন। তার কয়েকটি সন্তান শৈশবেই মারা গেছে। এসব মৃত্যুর পেছনে মায়েদের অল্প বয়স ও শিশুদের যত্ন নেওয়ার অভিজ্ঞতার অভাব ছিল বলে মনে করেন তিনি। তবে এটি তার নিজস্ব ব্যাখ্যা। তিনি আরও জানান, তার কয়েকটি সন্তান যক্ষ্মা, হুপিং কাশি ও হামে মারা গেছে।

 

নিজের পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ করে সাদেক বলেন, সন্তানদের খাবারের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করা এত কঠিন হবে জানলে তিনি এত সন্তান নিতেন না। তবে আর্থিক সংকটের মধ্যেও কেন সন্তান নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

 

সাদেকের পরিবারের এই দুর্দশা আফগানিস্তানের বৃহত্তর মানবিক সংকটেরও প্রতিচ্ছবি। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনই নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। পাশাপাশি বাল্যবিয়েও দেশটির অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয়।

সূত্র: বিবিসি

 

ডিবিসি/ আরএফই

আরও পড়ুন