ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

খেলাধুলা, ফুটবল

নিয়মের মারপ্যাঁচে কখনো ব্যালন ডি’অর পাননি পেলে-ম্যারাডোনা

নিয়মের মারপ্যাঁচে কখনো ব্যালন ডি’অর পাননি পেলে-ম্যারাডোনা

খেলাধুলা, ফুটবল

নিয়মের মারপ্যাঁচে কখনো ব্যালন ডি’অর পাননি পেলে-ম্যারাডোনা

স্পোর্টস ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে

ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের আলোচনায় পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনার নাম অবধারিতভাবেই আসে। ব্রাজিলের হয়ে তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছেন পেলে। আর ম্যারাডোনার অসাধারণ নৈপুণ্যে ১৯৮৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। অথচ এই দুই কিংবদন্তির কেউই নিয়মিত প্রতিযোগিতায় ব্যালন ডি’অর জেতেননি। এর কারণ তাদের পারফরম্যান্সের ঘাটতি নয়, পুরস্কারটির তৎকালীন যোগ্যতার শর্ত।

১৯৫৬ সালে ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল ব্যালন ডি’অর চালু করে। শুরুতে কেবল ইউরোপীয় ফুটবলাররাই এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতেন। ফলে ব্রাজিলের পেলে ও আর্জেন্টিনার ম্যারাডোনা মাঠে অসামান্য সাফল্য পেলেও পুরস্কারটির লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি।

 

পেলের ক্যারিয়ারের বড় অংশ কেটেছে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে। জাতীয় দলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেন তিনি। কিন্তু ইউরোপীয় না হওয়ায় ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচিত হওয়ার পথ বন্ধ ছিল তার।

 

ম্যারাডোনার ক্ষেত্রেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল একই নিয়ম। বার্সেলোনা ও নাপোলির মতো ইউরোপের বড় ক্লাবে খেললেও আর্জেন্টাইন পরিচয়ের কারণে তিনি পুরস্কারটির যোগ্য বিবেচিত হননি। এমনকি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানো অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সও সেই নিয়মের বাধা অতিক্রম করতে পারেনি।

 

নিয়ম বদলালেও সুযোগ মেলেনি

 

১৯৯৫ সালে ব্যালন ডি’অরের যোগ্যতার শর্তে বড় পরিবর্তন আসে। ইউরোপের ক্লাবে খেলা যেকোনো দেশের ফুটবলারের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করা হয়। সে বছরই প্রথম অ-ইউরোপীয় ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতেন লাইবেরিয়ার স্ট্রাইকার জর্জ উইয়াহ।

 

এরপর ২০০৭ সালে পুরস্কারটির পরিসর আরও বাড়ানো হয়। বিশ্বের যেকোনো লিগে খেলা ফুটবলারদের বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়। তবে তত দিনে পেলে ও ম্যারাডোনা দুজনই খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনেছেন।

 

ফুটবলে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অবশ্য দুজনকেই পরবর্তী সময়ে সম্মানসূচক ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়। তবে এসব সম্মাননা বার্ষিক ভোটাভুটিতে জেতা মূল পুরস্কার থেকে আলাদা।

 

পেলে ও ম্যারাডোনার শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করতে তাই শুধু ব্যালন ডি’অরের সংখ্যা দেখা যথেষ্ট নয়। যে পুরস্কারের জন্য নিজেদের সেরা সময়ে তারা বিবেচিতই হতে পারেননি, সেটি না জেতা তাদের অর্জনের সীমাবদ্ধতা নয়; বরং পুরস্কারটির তৎকালীন নিয়মের সীমাবদ্ধতা।

 

ডিবিসি/ আরএফই

আরও পড়ুন