বাংলাদেশ, সারা বাংলা
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যা মামলায় ২ কিশোরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার সময় বাধা দেয়ায় বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, গত ২০ অক্টোবর আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত ছিল সিয়াম।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতীম বাধা দেয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মোবাইল নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
পরে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। তাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া তুহিনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি। নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
মামলার বাদী ও অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা কল করে জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে সেই আশা করছি। বয়সের ফারাকে যেন আসামিরা বেরিয়ে যেতে না পারে।’
ডিবিসি/এসভিএন