ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

ইউরোপে তীব্র গরমে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু, বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

ইউরোপে তীব্র গরমে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু, বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক

ইউরোপে তীব্র গরমে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু, বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে

চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে তীব্র গরমে রেকর্ড ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই মৃত্যুর প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজনের জন্যই মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী।

গবেষকদের মতে, জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত অতিরিক্ত গরমের কারণে শহরাঞ্চলগুলোতে অন্তত ৩২ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। দিনের বেলায় তীব্র গরমের পর রাতেও তাপমাত্রা না কমায় মানুষের শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সুযোগ পায়নি। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ম্যালকম মিস্ত্রি বলেন, ‘৮৫৪টি শহর এলাকায় তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর এই সংখ্যাটি সত্যিই বিস্ময়কর। তবে এর চেয়েও বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব মৃত্যুর একটি বড় অংশ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে।’


গবেষণায় দেখা গেছে, মাল্টা, ইতালি ও হাঙ্গেরিতে গরমে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ছিল। তবে মোট মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য এগিয়ে রয়েছে। যুক্তরাজ্যের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী কেটি হোয়াইট বলেন, ‘এই মর্মান্তিক পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, জলবায়ু সংকটের কারণে এই গ্রীষ্মে হাজার হাজার পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে।’


সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতালির নেপলস শহর। সেখানে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮১৫ জন গরমে মারা গেছেন। মৃতদের প্রায় অর্ধেকই ৮৫ বছরের বেশি বয়সী হলেও কম বয়সীরাও ঝুঁকিমুক্ত ছিলেন না। ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী অন্তত ৮৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এই গরমে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যগত জটিলতার পাশাপাশি একাকীত্ব ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।


নেপলসের চিকিৎসক মারিও গুয়ারিনো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আসল মহামারি হলো একাকীত্ব। গ্রীষ্মের সময় অনেক প্রবীণ মানুষ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা থাকেন। আয় কম থাকায় তারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কিনতে পারেন না, অথবা বিদ্যুৎ বিলের ভয়ে তা চালানো থেকে বিরত থাকেন।’


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ডিবিসি/এসভিএন
 

আরও পড়ুন