বাংলাদেশ, সারা বাংলা
ময়মনসিংহ মেডিকেলের চিকিৎসাসামগ্রী ময়লার গুদামে পাইকারি দরে বিক্রির অভিযোগ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মমেক)। প্রতিদিন এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন হাজারো রোগী। অথচ হাসপাতালের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া গেছে নগরীর শম্ভুগঞ্জ এলাকার একটি ময়লার গুদামে। এসব সামগ্রীর প্যাকেটে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ উল্লেখ রয়েছে ২০২৮ ও ২০৩১ সাল পর্যন্ত। ফলে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার বাইরে এসব সামগ্রী কীভাবে গেল, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
শম্ভুগঞ্জের ওই গুদামে কয়েক বস্তা নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ময়লা সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের দাবি, হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা ময়লার সঙ্গে প্রতিদিনই অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী আসে। সেগুলো আলাদা করে জমা রাখা হয়। পরে কিছু সামগ্রী হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হলেও বাকিগুলো পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়।
গুদামে এসব চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়ার ঘটনায় হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহার না করা চিকিৎসাসামগ্রী ময়লার সঙ্গে বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ময়লা সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক জুবেদা খাতুন বলেন, ‘ময়লা সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজে ১১ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের মধ্যে চারজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়লা সংগ্রহ করেন। বাকি সাতজন গুদামে এসব ময়লা প্রক্রিয়াজাত করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ময়লার সঙ্গে প্রতিদিন নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন চলে আসে। সেগুলো আলাদা বস্তায় রাখা হয়। ১০ থেকে ১২ দিন পর তিন থেকে চার বস্তা সরঞ্জাম জমা হলে সেগুলো হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয়। বাকি সামগ্রী পাইকারি দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়।’
হাসপাতালের অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে বাইরে গেল, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার বাইরে এসব সামগ্রী চলে যাওয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের দায় ও তদারকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলেননি।
অন্যদিকে, হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, ‘অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ চিকিৎসাসামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব সামগ্রী কীভাবে বাইরে গেল এবং কীভাবে সেগুলো ফেরত আনা হবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাওয়া হবে। ছুটি শেষে সংশ্লিষ্টদের ডেকে জবাবদিহি করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৩৫ থেকে ৪০ ভ্যানগাড়ি ময়লা সরানো হয়। এসব ময়লার মধ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে কয়েক বস্তা অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যায়।
হাসপাতালের অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে বর্জ্যের সঙ্গে বাইরে যাচ্ছে, সেগুলো বিক্রির সঙ্গে কারা জড়িত এবং এ ক্ষেত্রে তদারকির ঘাটতি রয়েছে কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিবিসি/এসভিএন