সারা বাংলা
তরুণীর সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চাওয়ায় ২ পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় এক হিন্দু তরুণীর সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার পুনট ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে সালিশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন সুবর্ণা রানি (৪০), মলিনা রানি (৫৫), গোবিন্দ চন্দ্র মালী (৪৫), জয় চন্দ্র মালী (২৫) ও চিচোরন চন্দ্র মালী (৪৬)। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজন ওই তরুণীর পক্ষের এবং দুজন যুবকের পক্ষের।
স্থানীয় সূত্র ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিন মালিপাড়া গ্রামের দোলন (১৮) নামের এক যুবক ১৫ বছর বয়সী ওই তরুণীর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিতে চেয়েছিল। ওই তরুণী বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে মালিপাড়ায় সালিশ ডাকা হয়। সালিশে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষে জড়ায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবক দোলনের দাবি, সে কেবল সিঁদুর দিতে চেয়েছিল। এর জেরে ওই তরুণীর পরিবার ও তাদের লোকজন তিনটি বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে, একজনের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে। এ ঘটনায় তারা মামলা করবে বলে জানিয়েছে।
অন্যদিকে তরুণীর বাবা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘সালিশ চলাকালে হঠাৎ প্রতিপক্ষ আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের পক্ষের তিনজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। একটু সুস্থ হলেই আমরা থানায় মামলা করব।’
পুনট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম জানান, বিজয়া দশমীর দিনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডাকা সালিশেই দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডিবিসি/এমএনকে