সারা বাংলা
বাংলাদেশে মাদক উৎপাদন হয় না, মিয়ানমার থেকে প্রবেশ করে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

বাংলাদেশে মাদক উৎপাদন হয় না, কোনো না কোনোভাবে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে দেশে মাদক প্রবেশ করে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, মেধাবী ও অসহায় শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে বিশেষ অনুদান ও হুইলচেয়ার বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাদক নির্মূলে সাধারণ মানুষের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা মাদক বিক্রি ও আদান-প্রদানের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। সাধারণ মানুষ তথ্য দিলে প্রশাসনের পক্ষে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা অনেক সহজ হবে।’
শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থের অভাবে কোনো শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হবে-বর্তমান সরকার তা বিশ্বাস করে না। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য ও নির্বাচনী অঙ্গীকারেও আর্থিক সংকটে থাকা শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
চিকিৎসাসেবায় সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন জানান, অবহেলিত ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার জন্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে ক্যান্সার, কিডনি ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা দিতে প্রতি রোগীর জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়।
টেকনাফ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাহারছড়া ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৪৬ জন সদস্যকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট ৯২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধার্থে ৫টি হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৬ সালে টেকনাফ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় 'মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির' আওতায় ৯০০ জন গর্ভবতী নারীকে প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এসব সরকারি সহায়তার সুফল যেন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার তাগিদ দেন তারা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাহি নেওয়াজ, টেকনাফ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনাফ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. হাবিবা জাহান এবং সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বোতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিবিসি/এমএনকে