ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

আজ ফের প্রকাশ্যে গণনা হচ্ছে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা

আজ ফের প্রকাশ্যে গণনা হচ্ছে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা

সারা বাংলা

আজ ফের প্রকাশ্যে গণনা হচ্ছে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা আবারও জনসমক্ষে গণনা করা শুরু হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে মাজার প্রাঙ্গণে পঞ্চম বারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। গণনাকারীদের মতে, দান হিসেবে পাওয়া অর্থের পরিমাণ এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রকাশ্যে টাকা গণনার এই উদ্যোগকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ স্বচ্ছতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

 

তবে আর্থিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শৃঙ্খলা আনতে আয়ের পাশাপাশি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

 

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফার গণনায় মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে মোট ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। নগদ অর্থের পাশাপাশি সেবার ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫টি ভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও সংগৃহীত হয়েছিল।

 

এদিকে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা ফেরাতে গঠিত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, এখন থেকে মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। সংগৃহীত মোট দানের ৩৫ শতাংশ অর্থ মাজারের উন্নয়নকাজের জন্য সোনালী ব্যাংকের একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে, যা জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ অর্থ ব্যবহার করা হবে মাজারের দৈনন্দিন পরিচালনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা মেটাতে।

 

তদারকি কমিটির সদস্যসচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মাজারের নিরাপত্তা ও উন্নয়নসহ সার্বিক পরিচালনায় জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক এবং মোতোয়াল্লিকে সদস্যসচিব করে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এছাড়া দৈনন্দিন হিসাব ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি বা সেনা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, যার অধীনে একজন হিসাবরক্ষক ও অফিস সহকারী কাজ করবেন।

 

উল্লেখ্য, মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৈরি হওয়া নানা আলোচনার প্রেক্ষাপটে গত ২৩ জুন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের তদারকি কমিটি গঠিত হয়। এর আগে গত ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম পুরোনো দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগগুলো সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁকে প্রত্যাহার করা হলেও গত ২২ জুন তাঁর উপস্থিতিতেই প্রথমবার জনসমক্ষে মাজারের দানবাক্স খুলে টাকা গণনার সূচনা হয়।

আরও পড়ুন