আন্তর্জাতিক, আরব
শোক, ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতিতে বিপর্যস্ত গাজার এতিম শিশুরা

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মা-বাবা হারানো শিশু এবং স্বামীহারা নারীদের জীবনে নেমে এসেছে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা। স্বজন হারানোর শোকের সঙ্গে বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটে প্রতিদিন লড়ছেন তারা। অনেক পরিবারে এতিম শিশুদের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে এমন নারীদের, যাঁরা নিজেরাও স্বামী হারিয়েছেন।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে গাজার ফিলিস্তিনি সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ৫৪ হাজার ৪৬৮ শিশু মা-বাবার একজন অথবা দুজনকেই হারিয়েছে। আগের সংঘাতের ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করলে গাজায় এতিম শিশুর সংখ্যা অন্তত ৭১ হাজার এবং বিধবা নারীর সংখ্যা অন্তত ৬৪ হাজার। মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনে প্রায় তিন হাজার শিশুর কোনো অভিভাবক বা পরিচর্যাকারীর তথ্য নেই।
এই বিপর্যয়ের শিকার মরিয়ম, আয়া ও জেবরিল আবু আসের। ২০১৪ সালে বাবাকে হারানো তিন ভাইবোন ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ১৯ দিন পর ইসরায়েলি হামলায় মাকেও হারায়। এখন দাদি ও খালাদের আশ্রয়ে দিন কাটছে তাদের। দুই খালা নিজেরাও বিধবা।
তাদের খালা ওয়ারদা আল-মুজেইনি জানান, নিজের সন্তানদের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এর মধ্যেও বোনের সন্তানদের খরচ ভাগ করে বহন করছেন।
আরেক শিশু, ১৩ বছরের ওয়াফা আল-আত্তার, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক হামলায় মা-বাবা ও চার ভাইবোনকে হারায়। বাবার ফোন চার্জ দিতে চাচার বাড়িতে যাওয়ায় বেঁচে যায় সে। এখন চাচার পরিবারে আশ্রয় পেলেও আপনজন হারানোর শোক কাটেনি।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজিজা আল-কাহলুত সতর্ক করেছেন, দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি ও উপার্জনক্ষম স্বজন হারানোর কারণে শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের ঝুঁকি বাড়ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ডিবিসি/এসএফএল