সারা বাংলা
চুয়াডাঙ্গায় দেড় হাজার বস্তা সরকারি সার জব্দ, ডিলারের গোডাউন সিলগালা

কাগজপত্রে কৃষকদের মাঝে বিতরণ সম্পন্ন দেখিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা দেড় হাজার বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিস। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি মোড় এলাকার একটি গোডাউনে শনিবার রাতে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় সার জব্দ করার পাশাপাশি গোডাউনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। অনিয়মের সাথে জড়িত অভিযুক্ত বিএডিসি সারের ডিলারের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার ডিলার ও ‘নাঈম অটোমোবাইল ও বীজ ভান্ডার’-এর স্বত্বাধিকারী নাঈম উদ্দীন চলতি মাসের বরাদ্দকৃত সার কৃষকদের মাঝে বিতরণ শেষ হয়েছে বলে নথিপত্রে উল্লেখ করেন। তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ সার গোপন গোডাউনে মজুত রাখা হয়েছে—এমন গোপন খবর পায় উপজেলা কৃষি অফিস।
সংবাদের সত্যতা পেয়ে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা সরকারের নেতৃত্বে হাউলি মোড়ের ওই গোডাউনে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে গোডাউনটি থেকে অবৈধভাবে মজুত রাখা ১ হাজার ১২০ বস্তা ডিএপি, ৩৭০ বস্তা টিএসপি এবং ১০ বস্তা এমওপিসহ মোট ১ হাজার ৫০০ বস্তা সরকারি সার উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা সারসহ পুরো গোডাউনটি সিলগালা করার নির্দেশ দেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। এই পুরো অভিযানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং দামুড়হুদা মডেল থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা সরকার জানান, নথিপত্রে কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ সম্পূর্ণ দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলো গোপনে মজুত করে বাজারে কৃত্তিম সংকট তৈরি ও অবৈধ মুনাফা লোটার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
ডিবিসি/পিআরএএন