আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রে বাবার বন্দুক দিয়ে খেলতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাবার সাথে গাড়িতে বসে থাকার সময় নিজের গুলিতে ৩ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে বার্টোর একটি বার্গার কিং রেস্তোরাঁর পার্কিং স্থানে ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ ও পোল্ক কাউন্টির শেরিপ গ্রেডি জুড এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটের দিকে নাম না প্রকাশ করা এক ব্যক্তি তার তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে বার্গার কিংয়ের ড্রাইভ-থ্রুতে যান। খাওয়ার বিল শোধ করতে গিয়ে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে সমস্যায় পড়েন তিনি। সমস্যাটি সমাধানের জন্য গাড়িটি পাশের পার্কিং স্থানে নিয়ে থামান।
শেরিপের ভাষ্যমতে, প্যান্টের বেল্টে রাখা পিস্তলটি অস্বস্তিকর মনে হওয়ায় গাড়ি পার্ক করে চালকের আসনে ঝুঁকে ক্রেডিট কার্ডের বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময় বাবা তার রিভলবারটি খুলে পাশে রাখেন। তবে ঠিক কোথায় রেখেছিলেন তা শকের কারণে মনে করতে পারছেন না তিনি। এ সময় বাবার অমনোযোগিতার সুযোগে শিশুটি গাড়ি থেকে পিস্তলটি তুলে নেয় এবং দুর্ঘটনাবশত নিজের মুখে গুলি চালিয়ে দেয়। এতে গাড়ির ছাদের ওপরেও একটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার পরপরই শিশুটির বাবা গাড়ি থেকে নেমে দিকবিদিক ছুটছিলেন। তখন পাশে থাকা একটি গাড়ির এক নারী দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত লেকল্যান্ড আঞ্চলিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেরিপ গ্রেডি জুড ঘটনাটিকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, শিশুটিকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
তিনি জানান, ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী অসাবধানতার জন্য বাবার বিরুদ্ধে তৃতীয় ডিগ্রির অপরাধের মামলা করার সুযোগ রয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের ফৌজদারি অপরাধের মামলা করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়, বার্টো পুলিশ বিভাগ এবং শেরিফ কার্যালয়ের হত্যা তদন্ত দল যৌথভাবে নেবে।
তদন্ত কর্মকর্তা ডাউডি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি একটি চরম ট্র্যাজেডি। আজ রাতে একটি পরিবার তাদের সন্তান, ভাইপো বা কাজিনকে ছাড়া কাটাবে। মা-বাবা চেষ্টা করবেন কীভাবে এই ভয়াবহ ঘটনা সামলে নেওয়া যায়। আর দিনশেষে পুরো সমাজই এতে ব্যথিত।’
সূত্র: পিপল
ডিবিসি/ এসভিএন