সারা বাংলা
নেত্রকোণায় পাকা সেতু না হওয়ায় নদী পারাপারে দুর্ভোগ, ডেপুটি স্পিকারের দুঃখ প্রকাশ

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় পাকা সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত নদী পারাপারে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একই সঙ্গে যতদিন স্থায়ী সেতু নির্মাণ সম্ভব না হবে, ততদিন প্রতিবছর নিজ ব্যক্তিগত অর্থায়নে কাঠের সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ ও আশাবাদের কথা জানান।
এর আগে সোমবার স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থীদের দিয়ে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ৫ কাঠা গ্রামের সংস্কারকৃত কাঠের সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। ডেপুটি স্পিকারের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৮২ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট প্রস্থের এই সেতুটি সংস্কার করা হয়, যা দিয়ে বর্তমানে আশপাশের ১২ গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ কাঠা গ্রামের এই সেতুটি এলাকার হাজারো মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ৫ কাঠা বাজার, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চবিদ্যালয় ও ৪টি মাদ্রাসায় যাতায়াতের জন্য সেতুটির গুরুত্ব অপরিসীম। দীর্ঘদিন সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। তবে সংস্কারের পর আপাতত স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মাঝে। এর আগে গত বছর প্রথমবারের মতো এই সেতুটি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর কলমাকান্দার বিভিন্ন এলাকায় মোট ১২টি কাঠ ও বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে লেঙ্গুড়া ইউনিয়নে দুটি, নাজিরপুরে চারটি, কৈলাটিতে একটি, খারনৈয়ে দুটি, রংছাতিতে দুটি এবং কলমাকান্দায় একটি সেতু ছিল। এ বছর পাহাড়ি ঢলে একাধিক সেতু ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে আরও ৪টি সেতু (পোগলা ইউনিয়নে দুটি এবং নাজিরপুরে দুটি) নির্মাণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ও চলতি বছর নির্মিত সেতুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে।
পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব সেতু পুনর্নির্মাণে ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনায় ইতিমধ্যেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পারাপারের সুবিধার্থে আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাময়িক এই কাঠ-বাঁশের সেতু নির্মাণের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
ডিবিসি/এমএনকে