ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক, ভারত

‘অপারেশন ল্যাংড়া’ নামে গরু পাচারের অভিযোগ তুলে উত্তর প্রদেশে মুসলিমদের পঙ্গু করছে পুলিশ!

‘অপারেশন ল্যাংড়া’ নামে গরু  পাচারের অভিযোগ তুলে উত্তর প্রদেশে মুসলিমদের পঙ্গু করছে পুলিশ!

আন্তর্জাতিক, ভারত

‘অপারেশন ল্যাংড়া’ নামে গরু পাচারের অভিযোগ তুলে উত্তর প্রদেশে মুসলিমদের পঙ্গু করছে পুলিশ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

ভারতের উত্তর প্রদেশে গরু পাচারের অভিযোগে সন্দেহভাজনদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনা নতুন করে মানবাধিকার এবং আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২০ সাল থেকে প্রায় ৬৫০ জন সন্দেহভাজন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই মুসলিম, পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন। এদের প্রায় সবারই পায়ে, বিশেষ করে হাঁটুর নিচে গুলি লেগেছে, যা পুলিশের 'অপারেশন ল্যাংড়া' নামক কৌশলের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

মানবাধিকার আইনজীবী এবং অধিকারকর্মীরা পুলিশের এই কৌশলকে বিচারবহির্ভূত শাস্তি এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত সহিংসতা বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তাদের মতে, এটি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। তবে উত্তর প্রদেশের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা অমিতাভ যশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, পুলিশ কেবল আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছে এবং এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করার উদ্দেশ্য নেই।

 

এসব ঘটনা শুধু মানবাধিকার সংস্থাগুলোরই নয়, বিচার বিভাগেরও নজরে এসেছে। এলাহাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি এক রায়ে পুলিশের এনকাউন্টারের নামে এমন বিচারবহির্ভূত শাস্তির কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, এটি 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' এবং এটি বিচারব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করার শামিল। আদালত আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কিছু পুলিশ কর্মকর্তা পদোন্নতি বা প্রচারের লোভে এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছেন।

 

'দ্য সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট'-এর তথ্য অনুযায়ী, গরু পাচারের ঘটনায় আহতদের প্রায় ৯৩ শতাংশই মুসলিম। মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির আড়ালে পুলিশ সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে, যা হিন্দু ভোট টানার একটি কৌশল হতে পারে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোও এ ঘটনার ভয়াবহ পরিণতির কথা তুলে ধরেছেন। পুলিশের গুলিতে আহত অনেক ব্যক্তি এখন পঙ্গু হয়ে গেছেন, এবং তাদের পরিবারগুলো আর্থিক দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ, আর তাদের ধারণা, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবেই নিরীহ মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করছে।

 

এই পুরো বিষয়টি ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইনের শাসন এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও সরকার ও পুলিশ এসব ঘটনাকে অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে প্রচার করছে, তবুও এর পেছনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিতর্ক রয়েই যাচ্ছে।

 

সূত্র: এপি

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন