সারা বাংলা
আইফোনের লোভে বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে সাহেল গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় আইফোনের লোভে বন্ধু তারেক মিয়াকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে সাহেল মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি জলাশয়ের কচুরিপানার নিচ থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত তারেক মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌশতপুর গ্রামের মারফত উল্লাহর ছেলে। গ্রেপ্তার সাহেল মিয়া একই গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২১ অক্টোবর বুধবার ভবন নির্মাণের কাজে যোগ দিতে নবীগঞ্জ থেকে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে যান তারেক ও তাঁর বন্ধু সাহেল। এরপর থেকে দুজনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শনিবার তারেকের পরিবারের পক্ষ থেকে নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডির তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুজনের পূর্ববর্তী যোগাযোগের তথ্য যাচাই করে পুলিশ। একপর্যায়ে সাহেলের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাহেল বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরিবারকে ফোন করে কুমিল্লায় কাজ করছেন বলে জানান। তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান নবীগঞ্জের পানিউমদা এলাকায় শনাক্ত হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অবস্থানের অসংগতি পাওয়ায় পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। এরপর তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়।
মঙ্গলবার রাতে চৌশতপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরলে নবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত তালুকদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সাহেল মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি বন্ধু তারেককে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে সুরের রহমান নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতেন তারেক ও সাহেল। গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁরা ওই ভবনের নিচে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে তারেকের ব্যবহৃত আইফোন ১১-এর প্রতি সাহেলের লোভ হয়। একপর্যায়ে দা দিয়ে কুপিয়ে তারেককে হত্যা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সাহেল।
পরে মরদেহটি ফুলবাড়ি গ্রামের একটি জলাশয়ে ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন শুক্রবার লাখাই সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে এক ব্যক্তির কাছে আইফোনটি ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করে সাহেল আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি পুলিশের।
পরে গ্রেপ্তার সাহেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে ফুলবাড়ি গ্রামের ওই জলাশয়ে অভিযান চালিয়ে কচুরিপানার নিচ থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
ডিবিসি/এমএনকে