সারা বাংলা
যশোরে বিদেশ যাওয়ার টাকা না দেয়ায় ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মাকে নির্যাতনের অভিযোগ

যশোরে বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা না দেওয়ায় ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মায়ের গলায় শিকল ও তালা দিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর নিজের ছেলের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ সময় তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে যশোর শহরের শেখহাটি জামরুলতলা এলাকায়। নির্যাতনের শিকার ওই নারীর নাম শাহিদা আক্তার (৬০)। তিনি ওই এলাকার নুরুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলে নাজমুল ইসলাম তাজ।
ভুক্তভোগী শাহিদা আক্তারের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার জন্য তাঁর কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন ছেলে নাজমুল ইসলাম তাজ। সেই টাকা দিতে না পারায় তাঁকে গলায় শিকল ও তালা দিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার বছর আগে স্বামী নুরুল ইসলামের সঙ্গে শাহিদা আক্তারের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি নানা ধরনের পারিবারিক সমস্যার মুখোমুখি হন। একপর্যায়ে নিজের ছেলের বিরুদ্ধেই তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
এদিকে মাকে আটকে রেখে নির্যাতনের খবর পেয়ে তাঁর মেয়ে মাজেদা আক্তার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর যশোরের ইছালী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহিদা আক্তারকে উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারের সময় বৃদ্ধা শাহিদা আক্তারের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে তাঁকে মেয়ে মাজেদা আক্তারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধারের পর মাকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন মাজেদা আক্তার। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় মেয়ের বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শাহিদা আক্তার।
অন্যদিকে মাকে উদ্ধারে ৯৯৯-এ ফোন করার পর তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত নাজমুল ইসলাম তাজের দুই বোন। তাঁদের অভিযোগ, মাকে নির্যাতনের হাত থেকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার পরই তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাজমুল ইসলাম তাজের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যশোরের ইছালী পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খোরশেদ জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহিদা আক্তারকে উদ্ধার করে। এ সময় তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মামলা করতে চাইলে তাঁদের এজাহার গ্রহণ করা হবে।
বৃদ্ধা বয়সে সন্তানের কাছে আশ্রয় ও নিরাপত্তা পাওয়ার পরিবর্তে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এখন মেয়ের বাড়িতে দিন কাটছে শাহিদা আক্তারের। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ডিবিসি/এমএনকে