আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলের নির্বাচনে হিসাব ওলটপালট করতে পারে আরব দলগুলো!

ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে ক্ষমতার নাটকীয় সমীকরণের আভাস মিলেছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট উভয়ই ৫১টি করে আসন পেতে পারে। কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এখন আরব দলগুলোর সম্ভাব্য ১৮টি আসন ক্ষমতার চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।
এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলে আরব বা ফিলিস্তিনি নাগরিকদের অংশগ্রহণে এক অভূতপূর্ব রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। চ্যানেল ১২-এর প্রাথমিক হিসাব মতে, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবেও নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় রেকর্ড।
এই সমীকরণের পর সরকার গঠনে আরব দলগুলোর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাস জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ও পরে প্রধান দুই জোটই তার দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বুথফেরত জরিপের বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কোনো পক্ষের জন্যই সরকার গঠন করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তবে আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করা ইহুদি জোটগুলোর জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাস জানান, বিরোধী জোট নির্বাচনের আগে আরবদের সাথে জোট না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাই এখন তাদের কঠিন মূল্য চোকাতে হবে। তাছাড়া, সরকারে অংশ নিলে আরব দলগুলো নিজেদের অধিকার রক্ষায় এমন সব দাবি তুলবে, যা মেনে নেওয়া ইহুদি নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর জন্য বেশ কঠিন হবে।
ইসরায়েলের মোট এক কোটি জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশই ফিলিস্তিনি নাগরিক, যারা দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের শিকার। ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক শতাধিক আইন পাস হয়েছে। আগে ভোটদানে অনাগ্রহী থাকলেও, এবার নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং রাজনৈতিক প্রভাব তৈরির তাগিদেই তারা রেকর্ডসংখ্যক হারে ভোট দিয়েছেন, যা ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডিবিসি/এফএইচআর