বাংলাদেশ, জাতীয়
সুষ্ঠু নির্বাচনের টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলাই ইসির মূল লক্ষ্য: সিইসি

শুধুমাত্র একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নয়; বরং ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে অনুষ্ঠানের একটি টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলাই বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও জাতীয় নির্বাচনের মানদণ্ডে আয়োজনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনব্যবস্থা শুধু এককালীন আয়োজন নয়। একটা ভালো নির্বাচন করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। দেশে ভালো নির্বাচনের এমন একটি সংস্কৃতি আমাদের গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সব নির্বাচন ওই একই মানের হয়।’
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের জন্য ইসি সম্পূর্ণ প্রস্তুত জানিয়ে সিইসি বলেন, প্রতি ধাপে ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতায় ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার হার বেশি থাকায় এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরেও ক্যামেরা (বডি-ক্যাম) সংযুক্ত থাকবে। অনিয়ম ও সহিংসতা রোধে আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। সিইসি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক সমর্থন থাকতে পারে। তাই একটি সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের জন্য রাজনীতিবিদদের সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি।
সিইসি জানান, দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে। ইউপি নির্বাচনের পরপরই পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনই হবে নির্দলীয় প্রতীকে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিল বর্তমান কমিশন। নির্বাচনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তরুণদের উৎসাহিত করতে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাদেরও ভোটার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পূর্ণ সুযোগ থাকবে বলে জানান সিইসি। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে সাংবাদিকদের কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেকোনো অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি মাঠে সক্রিয় থাকবে।
কমিশন বর্তমানে সম্পূর্ণ চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করছে উল্লেখ করে সিইসি একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও মানসম্মত নির্বাচন উপহার দিতে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ ভোটারসহ সব অংশীজনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
ডিবিসি/এমএনকে