ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

প্রাণে না মারলেও তীব্র যন্ত্রণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অ্যাকটিভ ডিনায়াল সিস্টেম!

প্রাণে না মারলেও তীব্র যন্ত্রণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অ্যাকটিভ  ডিনায়াল সিস্টেম!

আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

প্রাণে না মারলেও তীব্র যন্ত্রণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অ্যাকটিভ ডিনায়াল সিস্টেম!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তে অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ‘অ্যাকটিভ ডিনায়াল সিস্টেম’ (এডিএস) বা ‘হিট রে’ নামক বিশেষ অস্ত্রটির পরীক্ষামূলক ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। গত সেপ্টেম্বরে এসংক্রান্ত একটি স্মারকে সই করেন তিনি। মূলত কাউকে আহত বা হত্যা করা নয়, বরং তীব্র জ্বালাপোড়া ও অসহনীয় যন্ত্রণা তৈরি করে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে মানুষকে সরে যেতে বাধ্য করাই এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সাত মাসের জন্য ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে (ডিএইচএস) এই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সামরিক যানের ওপর বহনযোগ্য এই এডিএস প্রায় ৯৫ গিগাহার্টজ কম্পাঙ্কের তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করে চারপাশের নির্দিষ্ট এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। মানুষের ত্বকের উপরিভাগে শোষিত হয়ে এই তরঙ্গ তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে, যা ওভেনের গরম বাতাসের হল্কার চেয়েও অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে এডিএস প্রাণঘাতী নয় এবং এর তরঙ্গ ক্যানসার বা প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা তৈরি করে না। তবে অস্ত্রটির স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। এর আগে ২০০৭ সালে প্রশিক্ষণের সময় এডিএসের সংস্পর্শে এসে মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সদস্য দগ্ধ হয়েছিলেন। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রটি ব্যবহারের ফলে মাঝারি মাত্রার পোড়ার ক্ষত বা ত্বকে ফোসকা পড়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

 

জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারের নিষিদ্ধ সরঞ্জামের তালিকায় এডিএসের নাম রয়েছে এবং যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এর ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, অদৃশ্য ও শব্দহীন এই শক্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ছাড়াও আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে হতাহতের বড় ঝুঁকি রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত এলাকায় এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার নতুন করে মানবতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে।

 

ট্রাম্প প্রশাসন নিজ দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় কড়া অবস্থান নিলেও, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সীমান্তকে ‘যুদ্ধক্ষেত্রের পরীক্ষাগারে’ পরিণত করছে বলে সমালোচনা করেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা। এর আগে ২০১৮ সালেও সীমান্তে এটি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হলেও তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটিমন্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাত মাসের এই পরীক্ষামূলক ব্যবহার শেষ হলে সীমান্ত সুরক্ষায় এর স্থায়ী প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন